রাজধানীতে স্ত্রী ও শাশুড়িকে ছুরি মেরে হত্যা, জামাতা আটক

সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর কলাবাগানে জামাইয়ের ছুরিকাঘাতে স্ত্রী ও শাশুড়ি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় হৃদয় ওরফে শিপনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহতরা হলেন, ফারজানা আক্তার (২১) ও তার মা ফিরোজা বেগম (৩৪)।
রবিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ‘পারিবারিক কলহের জের’ ধরে কাঁঠালবাগান এলাকার একটি বাসায় ঘটেছে এ ঘটনা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কলাবাগান থানার ওসি ফজলে আশিক।
ওসির ভাষ্য, ‘শিপন নামে ওই ব্যক্তি তার স্ত্রী ও শাশুড়িকে ছুরি মেরে হত্যা করেন।’
তিনি জানান, স্ত্রীর সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় শিপনের। পরে শাশুড়ি ফিরোজা বেগম মেয়ের পক্ষ নিলে দুজনকেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন শিপন। পরে ঘটনাস্থলেই স্ত্রী মারা যান এবং গুরুতর আহত অবস্থায় ফিরোজা বেগমকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
কলাবাগান থানার ওসি আরও বলেছেন, ‘জানতে পেয়েছি রাত্রির সঙ্গে শিপনের ডিভোর্স হয়ে গিয়েছিল। এরপরেও তারা একসঙ্গে থাকতেন।
নিহত ফিরোজা বেগমের স্বামী মো. ফারুক হোসেন জানান, সকালে তিনি ফোনে জানতে পারেন কাঁঠালবাগানে তার বাসায় মেয়ের জামাইয়ের সঙ্গে মেয়ের এবং শাশুড়ির ঝগড়া হচ্ছে। ফোন পেয়েই ছুটে যান বাসায়। সেখানে পৌঁছে দেখলেন, মেঝেতে পড়ে আছে তার মেয়ের রক্তাক্ত মরদেহ। আর মুমূর্ষু অবস্থায় কাতরাচ্ছেন স্ত্রী ফিরোজা বেগম। মেয়ের মরদেহ রেখে, স্ত্রী ফিরোজা বেগমকে (৩৪) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ফারুক হোসেন জানান, তার বাড়ি শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলায়। গত ২৪ জুলাই গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন তার স্ত্রী ও মেয়ে। শত শুক্রবার সেখানে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল। বিয়ের আগেরদিন সেখানে গিয়েছিলেন তার জামাতা শিপন। তবে শুক্রবার সকালে স্ত্রী ফারজানার সঙ্গে ঝগড়া করে ঢাকায় চলে আসেন শিপন।
তিনি আরও জানান, গতকাল শনিবার রাতে স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় ফিরেছিলেন তিনি। আজ সকালে সেসব বিষয় নিয়েই শিপনের সঙ্গে ঝগড়া হয় তাদের। এক পর্যায়ে ছুরি দিয়ে দুজনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে চলে যায় শিপন।
এদিকে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) মো. ফারুক জানিয়েছেন, ফিরোজা বেগমের মরদেহ জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি কলাবাগান থানায় অবগত করা হয়েছে।



