মানিক পশারীর দাফনে বাধা ও সনদ নিয়ে প্রশ্ন, তদন্ত করবে মন্ত্রণালয়

কোলাজ: আগামীর সময়
পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনসংক্রান্ত জটিলতা ও তার মুক্তিযোদ্ধা সনদের সত্যতা নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে তদন্ত করবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এজন্য একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে আজ বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, মানিক পশারীর মৃত্যু, দাফন এবং তার মুক্তিযোদ্ধা সনদের সত্যতা ও এ ঘটনায় অন্যান্য বিষয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ের নজরে এসেছে। বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয় যাচাই করবে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি। মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আযম খান এমপি এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন।
কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠভাবে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও সুপারিশ পর্যালোচনা করে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে মন্ত্রণালয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মর্যাদা সমুন্নত রাখতে মন্ত্রণালয় যেমন মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে অমুক্তিযোদ্ধাদের বাতিলের জন্য কাজ করছে, তেমনি কোনো প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সম্মান ও মর্যাদা যাতে অবমূল্যায়িত না হয়, সে বিষয়েও অবস্থান সুস্পষ্ট। পাশাপাশি কোনো মুক্তিযোদ্ধা অনৈতিক কাজে সম্পৃক্ত হলে বা কোনো সংগঠন বা গোষ্ঠীর হয়ে ব্যবহৃত হলে তার দায় তাকেই নিতে হবে।
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দণ্ডিত জামায়াত নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী ছিলেন মানিক পশারী। গত শনিবার দাফনের জন্য তার মরদেহ পিরোজপুরে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া ও মরদেহ দাফনে বাধা দেন জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে পুলিশ লাইনসের ভেতরে অনেকটা গোপনে গার্ড অব অনার দেওয়া হয় তাকে। পরে জামায়াত নেতাদের বাধার মুখে তৈরি হয় মরদেহ দাফনে জটিলতা।
ওইদিনই রাত ১টার দিকে সদর থানা পুলিশের সহায়তায় মানিক পশারীর মরদেহ তার বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে তার স্ত্রী, মেয়ে ও বোনসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা মিলে কবর খুঁড়ে রাত ২টার দিকে দাফন সম্পন্ন করেন।
সে সময় পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক লাশ দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, যারা ‘মানিক পশারীর দাফন পিরোজপুরে হতে দেওয়া হবে না’ বলে মিছিল ও বক্তব্য দিয়েছেন এবং ফেসবুকে ক্যাম্পেইন করেছেন তাদের অনেকেই স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মী।
এ ঘটনায় সৃষ্ট পরিস্থিতির ঘটনা তদন্তে গত মঙ্গলবার দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জামায়াতে ইসলামী। রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বিশেষ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি কমিটির সদস্য। তারা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে এর সঙ্গে সংগঠনের কেউ জড়িত কি না খতিয়ে দেখবেন বলে জানানো হয়। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।



