ওসি রাকিবের মতো কে কে আছেন খুঁজছে পুলিশ

রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসান। ছবি: সংগৃহীত
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি মো. রাকিবুল হাসানের কথোপকথনের অডিও ফাঁস হওয়া নিয়ে পুলিশে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ওই বৈঠকে আরও কারা উপস্থিত ছিলেন, তা নিয়েও চলছে নানা আলোচনা। এ ছাড়া রাকিবকে ক্যান্টনমেন্ট থানায় পদায়ন কোন প্রক্রিয়ায় হয়েছিল, কারা সুপারিশ করেছিলেন, তা নিয়েও চলছে নানা আলোচনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিও ক্লিপটি এরই মধ্যে সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দীন আহমেদের নির্দেশে ঘটনা তদন্তে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে। তিন কার্যদিবসের মধ্যে ওই কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার। এছাড়া ওসি রাকিবের মতো পুলিশে আরও কে কে আছেন তাও খোঁজা হচ্ছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন উপকমিশনার দেওয়ান জালাল উদ্দীন চৌধুরী ও উপকমিশনার তরিকুল ইসলাম।
মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ওসির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্ত চলছে। ওসিকে ভাইরাল হওয়া অডিওর বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পুলিশের একাধিক সূত্র বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিও কণ্ঠটি রাকিবুল হাসানের। রাকিব নিজেও তার কণ্ঠটির বিষয় স্বীকার করেছেন। তবে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দাবি করেছেন, একটি রেস্টুরেন্টের ভেতরে ওই মিটিংটি হয়েছিল। মিটিংয়ে অংশ নেওয়া অন্যদের কাছ থেকে গোপন তথ্য আদায় করতে তিনি অতি উৎসাহী হয়ে এই কৌশল অবলম্বন করেছিলেন। তবে তিনি ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার হয়েছেন।
পুলিশের একটি সূত্র বলছে, ২০০৭ সালে পুলিশে এসআই ক্যাডেট হিসেবে যোগদান করা রাকিবুল ক্যান্টনমেন্ট থানার আগে গুলশান এবং ভাটারা থানায় ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
জানা গেছে, পরিদর্শক রাকিবুলকে গত বৃহস্পতিবার ডিএমপি সদর দপ্তর ও প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। এর পর থেকেই তাকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করছেন কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবার ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদের সই করা এক আদেশে রাকিবুল হাসানকে প্রত্যাহার করা হয়। আদেশটি ওই দিন থেকেই কার্যকর হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জারি করা ডিএমপির আদেশে তার প্রত্যাহারের কারণ হিসেবে ‘প্রশাসনিক কারণ’ উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে গত বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাকিবের কথোপকথনের অডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। এতে ওসি পরিচয়ে এক ব্যক্তিকে সরকার, প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর সমালোচনা করতে শোনা যায়। অডিওতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং ওসি পদায়নে টাকা লেনদেনের অভিযোগও করেছেন তিনি।



