ক্রসফায়ারের পক্ষে আইজিপির বক্তব্য, গভীর উদ্বেগ আসকের

‘সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করা হবে’ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের বক্তব্যে তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। সংস্থাটি বলেছে, এ ধরনের বক্তব্য আইনের শাসন, সাংবিধানিক অধিকার ও মানবাধিকারের মূলনীতির পরিপন্থী।
আজ সোমবার সন্ধ্যায় আসকের সিনিয়র সমন্বয়কারী আবু আহমেদ ফয়জুল কবির স্বাক্ষরিত এক বার্তায় এ নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
এতে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সর্বোচ্চ পদে থাকা একজন কর্মকর্তার কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য শুধু অগ্রহণযোগ্যই নয়, বরং আইনের শাসন ও মানবাধিকারের জন্য উদ্বেগজনক। কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকলেও তাকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করার অধিকার রাষ্ট্র বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নেই।
আসক মনে করে, পুলিশের দায়িত্ব হলো আইন অনুযায়ী অপরাধ প্রতিরোধ, অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং তাঁদের বিচারিক প্রক্রিয়ার আওতায় আনা। আইন প্রয়োগের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সম্ভাবনা তুলে ধরা দায়িত্বশীল আইন প্রয়োগের দৃষ্টান্ত হতে পারে না।
সংস্থাটির মতে, এ ধরনের বক্তব্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পেশাদারত্ব, জবাবদিহি ও
সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে। পুলিশের মহাপরিদর্শকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তার কাছ থেকে প্রত্যাশিত পেশাগত সংযম ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে এ বক্তব্যের অসংগতি স্পষ্ট।
বার্তায় আরও বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয়লাভ এবং জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার সুরক্ষিত হয়েছে। সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র, আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক চুক্তি (আইসিসিপিআর) এবং নির্যাতনবিরোধী সনদ (ক্যাট) অনুযায়ী রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো জীবনের অধিকার রক্ষা, নির্যাতন প্রতিরোধ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
আসক বলেছে, কোনো সরকারি নির্দেশ বা অনুমতি এসব সাংবিধানিক ও আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার ঊর্ধ্বে নয়। অপরাধের অভিযোগের নিষ্পত্তি হতে হবে আইনানুগ বিচারিক প্রক্রিয়ায়, কোনো বাহিনীর তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে নয়।
সংস্থাটি আরও মনে করে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে আইজিপির এ বক্তব্যের স্পষ্ট অসংগতি রয়েছে। আইনের শাসন ও মানবাধিকার সুরক্ষায় সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পরিবর্তে পুলিশের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ক্রসফায়ারের সম্ভাবনা তুলে ধরা গভীর উদ্বেগজনক।
আসক সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে, আইজিপির বক্তব্যের বিষয়ে অবিলম্বে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে। একই সঙ্গে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের কোনো ধরনের অনুমোদন বা প্রশ্রয় দেওয়া হবে না, সে বিষয়ে দ্ব্যর্থহীন অবস্থান ঘোষণা করতে হবে।
এ ছাড়া বক্তব্যটির যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সংবিধান ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুসরণ করে দায়িত্ব পালনের সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।





