দু-এক দিনে শুরু হচ্ছে না ই-রিকশার নিবন্ধন
- সবে শুরু ফরম বিতরণ
- জোনভিত্তিক রিকশার রঙ নির্ধারণ বাকি
- কত রিকশার নিবন্ধন হবে সেই সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়নি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
তাদের দাপট বেড়েছে আগেই। ধীরে ধীরে সেই দাপট পরিণত হয়েছে দম্ভে। লাইসেন্স নেই, প্রশিক্ষণ নেই; তবু তারা বীরদর্পে রাজপথেও রাজত্ব করতে পারে। কেউ বাধা দিলে তেড়ে আসে, না হলে একেবারে মারামারির পর্যায়ে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও তাদের কাছে হার মানে বেশিরভাগ সময়। অবশেষে বছর দুয়েক পর সরকার থেকেই এলো তাদের বৈধ করার ঘোষণা। তবে মানতে হবে বেশ কিছু নীতিমালা। দিতে হবে লাইসেন্স ফি, নিতে হবে প্রশিক্ষণ। তবেই মিলবে রাজত্ব করার স্থায়ী সনদ।
অনেক দিন ধরেই রাজধানীসহ সারা দেশে অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলাচল করা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে নিবন্ধনের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছিল সরকার। এরই প্রেক্ষিতে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে গতকাল সোমবার থেকে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ই-রিকশার নিবন্ধন শুরু করার ঘোষণা দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। গত রবিবার সচিবালয়ে সিটি করপোরেশন এলাকায় ধীরগতির ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যান চলাচলের বিধিমালা-সংক্রান্ত সভায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী।
তবে গতকাল থেকে অটোরিকশার নিবন্ধন নিয়ে কিছু আনুষঙ্গিক কার্যক্রম শুরু হলেও মূল নিবন্ধন হবে আরও পরে। ঢাকার দুই সিটির প্রশাসকরা গতকাল এমনটাই জানিয়েছেন। সংস্থা দুটি জানিয়েছে, জোনভিত্তিক রিকশার রঙ নির্ধারণসহ মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন কাঠামো তৈরিতে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে তারা। এ ছাড়া কতগুলো অটোরিকশা নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে, সেই সিদ্ধান্তও এখনো নেওয়া হয়নি। ফলে দু-এক দিনে শুরু হচ্ছে না অটোরিকশার বৈধতার নিবন্ধন। আপাতত আজ মঙ্গলবার থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ঘোষণা দিয়েছে নিবন্ধনের ফরম বিতরণের। ১০০ টাকা মূল্যে আবেদন ফরম সংগ্রহ করা যাবে নগর ভবন ও ডিএসসিসির সব আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে। তবে ঢাকা উত্তর এখনো ফরম বিতরণের বিষয়ে কিছু জানায়নি।
জানা গেছে, ই-রিকশার নিবন্ধনের জন্য ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় চারটি করে মোট আটটি অঞ্চল করা হবে। প্রতিটি অঞ্চলের ই-রিকশার রঙ হবে আলাদা। কোন অঞ্চলে কতটি রিকশা চলবে, তা সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ আলোচনা করে নির্ধারণ করবে। তবে সেটি কিছুটা সময়সাপেক্ষ।
এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, সড়কে ব্যাটারিচালিত ই-রিকশার অবাধ চলাচল নিয়ন্ত্রণে আইনি কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছে সরকার। পরে পর্যায়ক্রমে চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সও দেওয়া হবে। এই পদ্ধতিতে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
আর ঢাকা দক্ষিণের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেছেন, নতুন বিধিমালা অনুযায়ী ফরম বিতরণের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। তবে শুধু ফরম সংগ্রহ করলেই নিবন্ধন পাওয়া যাবে না। নির্ধারিত শর্ত পূরণ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি মানদণ্ড অনুসরণ এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে শুধু যোগ্য বাহনগুলোকেই সনদ দেওয়া হবে। তিনি পর্যায়ক্রমে সব ই-রিকশাকে নিয়মের আওতায় এনে সড়কে অননুমোদিত ও অনুপযুক্ত যানবাহনের সংখ্যা কমিয়ে আনার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ডিএসসিসি জানিয়েছে, পুরনো অটোরিকশার নিবন্ধন পেতে অবশ্যই সেগুলো বুয়েটের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ই-রিকশা তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি বুয়েটনির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ই-রিকশার উপযুক্ততা পরীক্ষা এবং কারিগরি ছাড়পত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক। তবেই মিলতে পারে নিবন্ধন।
নতুন বিধিমালায় একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশা নিবন্ধনের সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার টাকা। ফিটনেস পরীক্ষা শেষে এক বছর পর নবায়ন করতে দিতে হবে ৪ হাজার। এ ছাড়া চার যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি ১০ হাজার এবং এক বছর পর নবায়ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার টাকা। বিধিমালা অনুযায়ী, একটি ই-রিকশা সর্বোচ্চ ১২ বছর চলাচল করতে পারবে।



