এবার বিজিবি পুলিশ ব্যাংক ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের পে স্কেল

প্রতীকী ছবি
সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ এবং সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) কর্মরত সদস্যদের জন্য ‘চাকরি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) বেতন ও ভাতাদি আদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি আলাদাভাবে জারি করা হয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ, ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং স্বশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথক বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপনও। সেক্ষেত্রে গ্রেড ১-এ প্রারম্ভিক মূল বেতন ৭৮ হাজার থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার এবং সর্বনিম্ন ৮ হাজার ২৫০ থেকে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের বেতন কাঠামো ছাড়া অন্য সংস্থার কাঠামোর সুযোগ-সুবিধা এবং সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামোর সুযোগ-সুবিধা সমান। এই নতুন আদেশটি এ বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে বলে জানা গেছে।
এর আগে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য গত শনিবার নবম বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬ নামে অভিহিত করা হয়েছে এটিকে।
এখন পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীসহ পাঁচটি বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের বেতন কাঠামোর প্রথম গ্রেড শুরু হয়েছে সরকারি চাকরিজীবীদের সাধারণ বেতন কাঠামোর চতুর্থতম গ্রেড থেকে।
নতুন বেতন কাঠামোয় গ্রেডভেদে প্রারম্ভিক মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে ১ থেকে ১১ নম্বর গ্রেডে মূল বেতন ১০০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। গ্রেড ১২ থেকে ২০ পর্যন্ত বাড়ানোর হার ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশ। পদোন্নতি ছাড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে উচ্চতর গ্রেডে যেতে দুই বছর কমানো হয়েছে। এখন থেকে চাকরির বয়স আট বছর পূর্ণ হওয়ার পর নবম বছরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে উচ্চতর গ্রেডে যাওয়ার বিধান থাকছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সার্ভিস রেকর্ড সন্তোষজনক হতে হবে। আগে এ সুবিধা পাওয়া যেত একই গ্রেডে টানা ১০ বছর চাকরি করার পর। সরকারি চাকরিজীবীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে জীবন ও স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কর্মস্পৃহা বাড়াতে বেশ কিছু খাতে ঝুঁকি ভাতা ও বিশেষ ভাতা বৃদ্ধি এবং পুনর্নির্ধারণ করা হয়। গেজেটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ১০ম থেকে ১৯তম গ্রেডের কর্মীদের ঝুঁকি ভাতা চাকরির বয়সের ভিত্তিতে ভাগ করা হয়েছে। যেখানে চাকরির মেয়াদের ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মীরা সর্বনিম্ন ১৫৬০ থেকে সর্বোচ্চ ৬৪৮০ টাকা পর্যন্ত মাসিক ঝুঁকি ভাতা পাবেন। একইভাবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ১০ম থেকে ১৮তম গ্রেড পর্যন্ত অপারেশনাল কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য চাকরির বয়সভেদে ১৬৮০ থেকে শুরু করে ৬৪৮০ টাকা পর্যন্ত ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডে কর্মরত কর্মীদের জন্য পদভিত্তিক স্থায়ী ঝুঁকি ভাতা নির্ধারণ করেছে সরকার। এতে রিক্রুট পর্যায়ে ১৭৪০ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে ওডি, এবি, এলএস, পিও, সিপিও, এসসিপিও এবং শীর্ষ পদ এমসিপিওদের জন্য সর্বোচ্চ ৩৮৪০ টাকা পর্যন্ত মাসিক ভাতা প্রদেয় হবে। আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অধীন সুন্দরবন পূর্ব ও পশ্চিম বন বিভাগের ১১ থেকে ২০ নম্বর গ্রেডের কর্মীদের ঝুঁকি ও বিশেষ ভাতা শতাংশের হিসাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এসব দপ্তরের কর্মীরা যে পরিমাণ ভাতা তুলতেন, তার সঙ্গে আরও ২০ শতাংশ যোগ করে নতুন ভাতার পরিমাণ চূড়ান্ত করা হবে, যা ২০২৮ সাল থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে।
নতুন বেতন কাঠামোতে চিকিৎসা ভাতায় বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। অষ্টম বেতন স্কেলে চিকিৎসা ভাতা মাসিক ১৫০০ টাকা ছিল। সেখান থেকে এই চারটি সংস্থার চাকরিজীবীদের বয়স ৫০ বছর পর্যন্ত মাসিক চিকিৎসা ভাতা ৩ হাজার এবং ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে পিআরএল শেষ হওয়া পর্যন্ত মাসিক ৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া অবসরে থাকা পেনশনভোগীরা ৫০ বছর পর্যন্ত মাসিক ৩ হাজার, ৫০-৬০ বছর পর্যন্ত ৪ হাজার, ৬০-৭০ বছর পর্যন্ত ৫ হাজার এবং ৭০ বছরের বেশি হলে সেটি ৬ হাজার টাকা হবে।
এখন মূল বেতনের ১৫ শতাংশ হারে প্রতি বছর বাংলা নববর্ষ ভাতা পাবেন। তবে আগে এটি ২০ শতাংশ হারে ছিল। এ ছাড়া মাসিক নিট পেনশনগ্রহণকারী অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীরাও (মূল পেনশনভোগীর প্রাপ্ত নিট পেনশনকে ভিত্তি ধরে) এ ভাতা পাবেন।
প্রতিবন্ধী সন্তানদের ভাতা: কোনো চাকরিজীবীর সন্তান প্রতিবন্ধী হলে মাসিক ৩ হাজার টাকা ভাতা পাবেন। এটি সর্বোচ্চ দুই সন্তানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
নতুন বেতন কাঠামোর ২০টি গ্রেড: গ্রেড ১-এ প্রারম্ভিক মূল বেতন ৭৮ হাজার থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার; গ্রেড ২-এ ৬৬ হাজার থেকে বেড়ে ১ লাখ ৩২ হাজার; গ্রেড ৩-এ ৫৬ হাজার ৫০০ থেকে বেড়ে ১ লাখ ১৩ হাজার এবং গ্রেড ৪-এ ৫০ হাজার থেকে বেড়ে ১ লাখ টাকা হয়েছে।
এভাবে ২০টি গ্রেডে বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে নতুন বেতন কাঠামোয়। এর মধ্যে গ্রেড ৫-এ ৪৩ হাজার থেকে বেড়ে ৮৬ হাজার; গ্রেড ৬-এ ৩৫ হাজার ৫০০ থেকে বেড়ে ৭১ হাজার, গ্রেড ৭-এ ২৯ হাজার থেকে বেড়ে ৫৮ হাজার; গ্রেড ৮-এ ২৩ হাজার থেকে বেড়ে ৪৬ হাজার; গ্রেড ৯-এ ২২ হাজার থেকে বেড়ে ৪৪ হাজার এবং গ্রেড ১০-এ ১৬ হাজার থেকে বেড়ে ৩২ হাজার টাকা হয়েছে।
গ্রেড ১১-এ প্রারম্ভিক মূল বেতন ১২ হাজার ৫০০ থেকে দ্বিগুণ হয়ে ২৫ হাজার টাকা হয়েছে। গ্রেড ১২-এ ১১ হাজার ৩০০ থেকে বেড়ে ২৪ হাজার ৩০০; গ্রেড ১৩-এ ১১ হাজার থেকে বেড়ে ২৪ হাজার; গ্রেড ১৪-এ ১০ হাজার ২০০ থেকে বেড়ে ২৩ হাজার ৫০০ এবং গ্রেড ১৫-এ ৯ হাজার ৭০০ থেকে বেড়ে ২২ হাজার ৮০০ টাকা হয়েছে।
এ ছাড়া গ্রেড ১৬-এ ৯ হাজার ৩০০ থেকে ২১ হাজার ৯০০, গ্রেড ১৭-এ ৯ হাজার থেকে ২১ হাজার ৪০০; গ্রেড ১৮-এ ৮ হাজার ৮০০ থেকে ২১ হাজার; গ্রেড ১৯-এ ৮ হাজার ৫০০ থেকে ২০ হাজার ৫০০ এবং গ্রেড ২০-এ ৮ হাজার ২৫০ থেকে ২০ হাজার টাকা হয়েছে।



