ভারতের পার্লামেন্টারি কমিটির প্রতিবেদন
নতুন সরকারকে স্বাগত চীনের প্রভাবে উদ্বেগ

সংগৃহীত ছবি
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পালাবদলের পর দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেখছে ভারতের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটি। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রূপরেখা এবং কৌশল নির্ধারণে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ শীর্ষক প্রতিবেদনে চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগও উঠে এসেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ভারতের লোকসভা ও রাজ্যসভায় উপস্থাপন করা হয় প্রতিবেদনটি। বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকার, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান, চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব, অমীমাংসিত পানিবণ্টন চুক্তি, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং ভিসা কার্যক্রমের মতো বিষয়গুলোয় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে তাতে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ভারত ‘পরিমিত ও হিসাবনিকাশভিত্তিক অ-হস্তক্ষেপ নীতি’ অনুসরণ করে। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে ‘অবাধ ও সুষ্ঠু’ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয় এবং তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি ভারত ‘ইতিবাচকভাবে’ গ্রহণ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনে জয়ের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রথম বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে টেলিফোনে কথা বলে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
পার্লামেন্টারি কমিটি ভারতের এই পদক্ষেপের প্রশংসা করে বলেছে, বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক আরও নিবিড় করতে এবং অমীমাংসিত বিষয়গুলো ‘পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে’ সমাধান করার জন্য এটি একটি ‘দারুণ সুযোগ’।
তবে বাংলাদেশে চীনের ক্রমবর্ধমান ‘অর্থনৈতিক, অবকাঠামোগত ও কৌশলগত’ সম্পৃক্ততা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতের পার্লামেন্টারি কমিটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোংলা বন্দরের উন্নয়নে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ৩৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য চীনের সঙ্গে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ।
এ ছাড়া ভারতের আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে লালমনিরহাট বিমানঘাঁটি চীনের সহায়তায় উন্নত করা হচ্ছে, যা ভারতের কৌশলগত শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তার জন্য একটি ‘বড় শঙ্কার কারণ’ বলে পার্লামেন্টারি কমিটি মনে করছে।






