ইনসাইটস ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদন
নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি হতে পারে ৬৭ শতাংশ

ফাইল ছবি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ৬৭ দশমিক ৭ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি হতে পারে বলে জানিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনসাইটস ইন্টারন্যাশনাল।
মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় সংস্থাটি।
তারা জানায়, মাল্টিলেভেল রিগ্রেশন অ্যান্ড পোস্টস্ট্র্যাটিফিকেশন (MRP) পদ্ধতি ব্যবহার করে যুবসমাজের রাজনৈতিক সক্রিয়তা, প্রজন্মভিত্তিক আচরণ এবং নির্বাচনী ঝুঁকি বিশ্লেষণের মাধ্যমে এ পূর্বাভাস প্রস্তুত করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘নিশ্চিতভাবে ভোট দেবেন’ এমন ভোটারের হার ধরা হয়েছে ৪৫ দশমিক ২১ শতাংশ। আর ‘নিশ্চিত বা সম্ভবত ভোট দেবেন’ এমন সম্ভাব্য ভোটারের হার ৬৭ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। এই হিসাব জনসংখ্যাগত, সামাজিক ও ভৌগোলিক বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে সমন্বয় করে নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে জেলাভিত্তিক প্রক্ষেপণে ভোটার উপস্থিতিতে বড় ধরনের তারতম্য দেখা গেছে। সম্ভাব্য সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি ধরা হয়েছে ফরিদপুরে ৮৫ দশমিক ৫ শতাংশ। এর পরেই রয়েছে সাতক্ষীরা (৮০ দশমিক ৭ শতাংশ) এবং ঢাকা (৭২ দশমিক ২ শতাংশ)। অন্যদিকে সবচেয়ে কম ভোটার উপস্থিতি হতে পারে পার্বত্য জেলা বান্দরবানে প্রায় ২৭ শতাংশ।
গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, কয়েকটি ইতিবাচক কারণ ভোটার উপস্থিতি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ১৮–২৪ বছর বয়সী বিপুল সংখ্যক নতুন ভোটারের অংশগ্রহণ। এ ছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া তরুণদের মধ্যে ৮৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ ভোট দেওয়ার বিষয়ে উচ্চ আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের তথ্যপ্রাপ্তির প্রধান মাধ্যম হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপক ব্যবহারও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে উঠে এসেছে ১৮–২৪ বছর বয়সীদের ৭৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ ফেসবুক ও ইউটিউবকে নির্বাচনী তথ্যের প্রধান উৎস হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তবে ভোটার উপস্থিতি কমিয়ে দিতে পারে এমন কিছু নেতিবাচক ঝুঁকির কথাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। নির্বাচনী সহিংসতার আশঙ্কা বিশেষ করে নারী ও তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ নিরুৎসাহিত করতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আস্থাহীনতা এবং প্রতিনিধিত্বের অভাববোধও ভোটদানে অনাগ্রহ সৃষ্টি করতে পারে। এ ছাড়া কাজ বা পড়াশোনার কারণে প্রায় ১০ শতাংশ ভোটার তাদের নিবন্ধিত এলাকায় নির্বাচনের দিন অবস্থান করতে পারবেন না এমন তথ্যও উঠে এসেছে।
এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রতিবেদনে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদার করা, আগাম বা ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা এবং নতুন ও তরুণ ভোটারদের জন্য বিশেষ রাজনৈতিক যোগাযোগ কার্যক্রম পরিচালনা করা। নিরাপদ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন পরিবেশ নিশ্চিত করতে স্পষ্ট যোগাযোগ কৌশল গ্রহণের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
গবেষণার উপসংহারে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত ভোটার উপস্থিতি মূলত রাজনৈতিক দলগুলোর গণসংযোগ, নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা এবং সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। অধিক সংখ্যক ভোটারের অংশগ্রহণ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বৈধতা ও গ্রহণযোগ্যতা আরও শক্তিশালী করবে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

