ইউনিসেফ
শিশুদের ওপর বর্বরতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে

বাংলাদেশে সম্প্রতি শিশুদের ওপর একের পর এক বর্বরতা ও সহিংসতার ঘটনায় মর্মাহত ও স্তম্ভিত বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ। সংস্থাটির বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স এক বিবৃতিতে জানান এ কথা।
‘শিশুদের ওপর বর্বরতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে’ শিরোনামের ওই বিবৃতিতে বলা হয়, যেখানে শিশুদের সবচেয়ে নিরাপদে থাকার কথা, সেখানেই তারা শিকার হচ্ছে ধর্ষণ ও হত্যার। চলতি বছর সারা দেশে বেড়েছে নারী ও শিশুদের ওপর যৌন সহিংসতা ও বর্বরতার ঘটনা। এর ফলে দেশব্যাপী শিশুদের সুরক্ষা এবং জেন্ডার সহিংসতা প্রতিরোধে অবিলম্বে জোরদার পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
বিবৃতিতে বলা হয়, অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করে অবসান ঘটাতে হবে এই সংস্কৃতির। একই সঙ্গে সহিংসতা প্রতিরোধ, অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা, প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক সুরক্ষা, শিশুবান্ধব পুলিশ ও বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়। পাশাপাশি স্কুল, মাদ্রাসা, কর্মক্ষেত্র, পাড়া-মহল্লা ও শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রগুলোর জবাবদিহি আরও বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
সমাজের মানুষ নীরব থাকলে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে উল্লেখ করে সংস্থাটি জানায়, সহিংসতা, নির্যাতন ও শোষণের ঘটনা ঘটলে সবাইকে জানাতে হবে অভিযোগ। অভিযোগ জানানোর জন্য চালু রয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তরের শিশু হেল্পলাইন (১০৯৮)। এখান থেকে দেওয়া হয় শিশুদের জরুরি সহায়তা ও সেবা।
ইউনিসেফ বলছে, পূর্ণ সুরক্ষার অধিকার রয়েছে নিপীড়নের শিকার নারী ও শিশুদের। তাদের ছবি, ভিডিও বা পরিচয় প্রকাশ পায়—এমন কোনো ব্যক্তিগত তথ্য ছড়ানো নতুন করে নির্যাতনের শামিল। যারা এসব তথ্য ছড়াচ্ছেন, তারা মূলত ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের কষ্ট ও অসম্মানকে আরও বাড়িয়ে তুলছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রত্যেক শিশুরই স্কুল, ঘর, সামাজিক পরিবেশ এমনকি গণমাধ্যমেও তাদের গল্প ও ছবি উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সুরক্ষা পাওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। শিশুদের সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার এবং অপরাধীদের দায়মুক্তি অবসানের দাবিতে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।






