শিক্ষার ৯৭ শতাংশ দায়িত্ব পালন করেও অনিশ্চয়তায় শিক্ষকরা
- শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের ৮ দাবি

ছবি: আগামীর সময়
শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ, দ্রুত নবম জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়ন, নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্ত করা এবং শতভাগ উৎসব ভাতাসহ আট দফা দাবি জানিয়েছে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট।
আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুরুল হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান মো. সেলিম ভূঁইয়া।
দেশের প্রায় ৯৭ শতাংশ শিক্ষার দায়িত্ব পালন করেও চাকরির নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে দাবি করে সেলিম ভূঁইয়া বলেন, ‘বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরির নিরাপত্তা, আর্থিক নিশ্চয়তা ও সামাজিক মর্যাদা নেই। শিক্ষার উন্নয়ন এবং শিক্ষকদের ভাগ্যের পরিবর্তনে চাকরি জাতীয়করণের কোনো বিকল্প নেই।’
শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের সম্ভাব্য ব্যয়ের একটি হিসাবও তুলে ধরে সংগঠনটি। এতে বলা হয়, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মিলিয়ে ৩০ হাজার ৭৮৩টি প্রতিষ্ঠানে ৬ লাখ ৪৭ হাজার ৩১১ জন শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। তাদের বেতন-ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, বাড়িভাড়া, উৎসব ভাতা ও বৈশাখী ভাতা বাবদ বছরে মোট ব্যয় হবে প্রায় ২৬ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা।
অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের বেতন, সেশন চার্জ, প্রতিষ্ঠানের সম্পদ, সাধারণ তহবিল ও রিজার্ভ ফান্ড থেকে বছরে প্রায় ৮ হাজার ৪০০ কোটি টাকা আয় হতে পারে দাবি সংগঠনটির।
তাদের দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমানে সরকার বেতন-ভাতা বাবদ প্রায় ১৭ হাজার ২৩৭ কোটি টাকা দিচ্ছে। জাতীয়করণ করা হলে অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ৯ হাজার ১০০ কোটি টাকা। তবে প্রতিষ্ঠানের আয় সমন্বয় করলে সরকারের অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে বছরে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা।
দ্রুত নবম জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের দাবিও জানিয়েছে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এ জন্য ৩ হাজার ২৬৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। অবিলম্বে নতুন বেতন স্কেল কার্যকরের দাবি জানান তারা।
এ ছাড়াও দাবি জানানো হয় প্রায় তিন হাজার নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্তের।
‘দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পাওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন’-উল্লেখ করা হয় লিখিত বক্তব্যে।
বদলির অপেক্ষায় থাকা শিক্ষকদের দ্রুত বদলির আদেশ প্রকাশের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের অভিযোগ, ত্রুটিপূর্ণ সফটওয়্যারের মাধ্যমে শিক্ষকদের কাছ থেকে বদলির আবেদন নেওয়া হয়েছে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে এখনো বদলির আদেশ প্রকাশ করা হচ্ছে না। অনেক শিক্ষক নিজ উপজেলা, জেলা কিংবা বিভাগে চাকরির সুযোগ না পেয়ে পরিবার থেকে কয়েক শত কিলোমিটার দূরে কর্মরত রয়েছেন।
সংগঠনটির অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের শতভাগ উৎসব ভাতা, সরকারি নিয়মে বাড়িভাড়া, চাকরি থেকে অবসরের বয়সসীমা ৬৫ বছর নির্ধারণ এবং বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) প্রথম থেকে দ্বাদশ নিবন্ধনের সনদধারীদের নির্বাহী আদেশে নিয়োগ।




