দ্য হিন্দুকে হুমায়ুন কবির
হাসিনার তৎপরতাই প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে প্রধান চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের পরিকল্পনার ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জ ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের কর্মকাণ্ড বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকায় সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ আয়োজিত বঙ্গোপসাগর সংলাপের ফাঁকে দ্য হিন্দুর এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
বাংলাদেশ পররাষ্ট্রনীতিতে ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’কে গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির আরও বলেন, বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের চ্যালেঞ্জগুলো ভারতকে বুঝতে হবে। ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নির্বাসিত নেতাদের কর্মকাণ্ড ভারতের জন্যও কোনো সুফল বয়ে আনবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘সফরটি দুই দেশের মধ্যকার হবে। তবে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং সংলাপের মাধ্যমে আমরা সেগুলো কাটিয়ে উঠব। প্রধান চ্যালেঞ্জটি খুব বেশি কিছু নয়। শেখ হাসিনা ও তার দল দিল্লিতে অবস্থান করছেন এবং তারা দিল্লিতে বসে একটি বিদেশি দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন। এটি ভারতের জন্যও কোনো সুফল বয়ে আনে না।’
শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান দমনের সময় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রায় দুই হাজার বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। হুমায়ুন কবির তাকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবেও আখ্যায়িত করেন। তার ভাষ্য, ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে দেশ শাসন করা শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটাতে গিয়ে বহু মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। তাই অতীতের সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের একটি ‘পরিষ্কার বিচ্ছেদ’ প্রয়োজন।
তবে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আলোচনা চলছে এবং ঢাকায় তা স্বাগত জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা কিছু ইতিবাচক লক্ষণ দেখছি। ভারত তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটিই স্বাভাবিক। তারা যদি নিয়ন্ত্রিত থাকেন, তাহলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কোনো সমস্যা হবে না।’
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সফর অনুকূল সময়ে হবে এবং আমি আশাবাদী। প্রধানমন্ত্রী কখনো বলেননি যে তিনি ভারতে যাবেন না।’ এ ক্ষেত্রে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এখানে ভারতের হাইকমিশনার ভালো ভূমিকা রাখছেন। তিনি চেষ্টা করছেন। আশা করি, দিল্লি তার মতামতকে গুরুত্ব দেবে। যদি তারা তার মতামতকে গুরুত্ব দেয়, তাহলে আমরা সব বিষয়ে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। আমরা আমাদের মধ্যে পরামর্শ চালিয়ে যাচ্ছি।’
দিল্লি ও ঢাকার সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বকে ‘বাধা’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। তবে ভারতের কাছ থেকেও একই ধরনের পদক্ষেপ আশা করে ঢাকা।
তিনি বলেন, ‘দুই সরকার যখন জাতীয় স্বার্থকে বিবেচনায় রেখে আলোচনায় বসে, তখন সব বিষয় নিয়ে সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব।’ ঢাকায় বসে কেউ ভারতের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করলে বাংলাদেশ তা মেনে নেবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারতও একই ধরনের পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি আশা করেন।
এর আগে বঙ্গোপসাগর সংলাপে দেওয়া বক্তব্যে হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। পারস্পরিক সম্মান, পারস্পরিক স্বার্থ ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার কথা জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমরা সবার সঙ্গে শক্তিশালী অংশীদারত্ব চাই। একই সঙ্গে আমরা কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনও চাই।’
ওই বক্তব্যে তিনি ভারত বা বাংলাদেশের অন্য কোনো বৈশ্বিক অংশীদারের নাম উল্লেখ করেননি। পরে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘প্রত্যেক দেশই কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন চায়। ভারতও তার কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন চায়। বাংলাদেশও তার কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন চায়। এই ধারণাটি মূলত আমাদের কী প্রয়োজন, তা নিয়ে।’




