দুটি অয়েল ট্যাংকার কেনার পরিকল্পনা
- ব্যয় হবে ১,৪৫৭ কোটি টাকা

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতা যে কোন পর্যায়ে সেটি আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে মধ্যপ্রাচ্য সংকট। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানির মজুদ বৃদ্ধি, পরিবহন পরিকল্পনাসহ নেওয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ। এরই অংশ হিসেবে কেনা হচ্ছে দুটি অয়েল ট্যাংকার। এজন্য ‘৪০-৫৫ হাজার ডিডব্লিউটি-সম্পন্ন দুটি প্রোডাক্ট অয়েল ট্যাংকার জাহাজ অর্জন’ নামের প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে।
প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৪৫৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এই অর্থ সরকারের কাছ থেকে পুরোপুরি ঋণ হিসাবে নেবে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)। প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী সভায় উপস্থাপনের প্রস্তুতি নিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য সচিব ড. নেয়ামত উল্লা ভূঁইয়ার ভাষ্য, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিএসসির বহরে জাহাজের সংখ্যা ও পণ্য পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। সেসঙ্গে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মুনাফা অর্জন করে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়াতে রাখতে পারবে অবদান। এ ছাড়া জাহাজগুলো পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে সুযোগ সৃষ্টি হবে নতুন কর্মসংস্থানের। পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টিও জড়িত। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে একনেকে উপস্থাপনের।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বিএসসি বহরে জাহাজের সংখ্যা ও পণ্য পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধি করাই হচ্ছে প্রস্তাবিত প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মুনাফা অর্জন করে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করা। এ ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সরকারকে সহযোগিতা করা, মেরিটাইম সেক্টরে নাবিক প্রশিক্ষণসহ দক্ষ জনবল তৈরিতে অবদান রাখার পাশাপাশি জাহাজের অপারেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।
আরও বলা হচ্ছে, সমুদ্র পরিবহনের মাধ্যমে দেশের বাণিজ্যিক চাহিদা পূরণে সহায়ক ভূমিকা পালনসহ বিএসসিকে আরও লাভজনক করা, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা এবং সুনীল অর্থনীতির (ব্লু-ইকোনমি) সঙ্গে সম্পর্কিত দেশের নৌপরিবহন খাতে অবকাঠামোগত সুবিধা উন্নয়ন করা। জাহাজ পরিচালনাকালে পোর্ট চার্জ, রেজিস্ট্রেশন, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ, বীমা, ট্যাক্স-ভ্যাট ইত্যাদি খাতে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব অর্জনে সহায়তা করবে এ প্রকল্প। একনেকে অনুমোদন পেলে প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হবে চলতি বছর থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ (স্বার্থরক্ষা) আইন, ২০১৯ অনুসারে সরকারি তহবিলের অর্থে সমুদ্রপথে পরিবাহিত পণ্য রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিপিং করপোরেশনের মাধ্যমে পরিবহন করাতে হয়। কিন্তু বর্তমানে বিএসসির বহরে জাহাজের সংখ্যা অপ্রতুল হওয়ায় খুব স্বল্প পরিমাণ পণ্য পরিবহন করা যায়। বেশিরভাগ পণ্যই বিদেশি জাহাজ দিয়ে পরিবহন করা হচ্ছে। ফলে হারাতে হচ্ছে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। একটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও বিএসসির বহরে চাহিদাসম্পন্ন কোনো জাহাজ নেই।
যুদ্ধ-বিদ্রোহ অথবা বিশ্বব্যাপী অন্য কোনো জরুরি অবস্থার সৃষ্টি হলে বিএসসি ছাড়া কোনো প্রাইভেট শিপিং প্রতিষ্ঠান তাদের জাহাজ সরবরাহ করে না। সরকারি একমাত্র সংস্থা হওয়ায় শুধু এ অবস্থায় বিভিন্ন স্পর্শকাতর বা জরুরি পণ্য পরিবহনে বিএসসি তার বহরের জাহাজ সরবরাহের জন্য বাধ্য থাকে। বৈদেশিক মুদ্রা আয় ও সাশ্রয়ের পাশাপাশি বিদেশি জাহাজের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বাণিজ্যিক চাহিদা মেটানোসহ সরকারের রাজস্ব উপার্জন এবং বিশ্বব্যাপী যেকোনো পরিস্থিতিতে পণ্য পরিবহনের জন্য আরও জাহাজ সংগ্রহ করার মধ্য দিয়ে এ খাতের উন্নয়ন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্প প্রস্তাব পাওয়ার পর গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হয় প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা। সভায় পরিকল্পনা কমিশনের পক্ষে বিভিন্ন ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। বলা হয়, ডিপিপির (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) প্রস্তাবিত ব্যয়ের মধ্যে সম্মানী ভাতা, নিবন্ধন ফি, ব্যবস্থাপনা ব্যয়, সাধারণ সরবরাহ ব্যয়, পরামর্শক ব্যয়, আইন-সংক্রান্ত ব্যয়, ব্যাংক চার্জ, প্রশিক্ষণ ব্যয়, অভ্যন্তরীণ ভ্রমণ, অনুদান বা উৎসব ভাতাসহ সব অঙ্গের ব্যয় পুনঃ পর্যালোচনা করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে ব্যয়ের প্রাক্কলন যৌক্তিকভাবে পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। এ ছাড়া বৈদেশিক প্রশিক্ষণ এবং ভ্রমণ অঙ্গটি বাদ দিতে হবে। তবে বৈদেশিক প্রশিক্ষণ ও ভ্রমণ একান্ত প্রয়োজন হলে তার যৌক্তিকতাসহ সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে ব্যয় নির্বাহ করা যেতে পারে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন উল্লিখিত অঙ্গের ব্যয় প্রাক্কলন যৌক্তিকভাবে পুনর্নির্ধারণ করেছে। পাশাপাশি সুপারিশ অনুযায়ী বিদেশে প্রশিক্ষণ ও ভ্রমণ অঙ্গ বাদ দিয়েছে বলে জানা গেছে।






