৯ লিটার তেল মিলত ১০ লিটারের দামে

ছবি: আগামীর সময়
রাজধানীতে জ্বালানি তেল পরিমাপে ভয়াবহ কারচুপির প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। ঢাকা মহানগরীর দুটি ফিলিং স্টেশনে পৃথক অভিযান চালিয়ে দেখা গেছে, একটি পাম্পে প্রতি ১০ লিটার জ্বালানিতে প্রায় ১ লিটার পর্যন্ত কম দেওয়া হচ্ছিল। গ্রাহকদের কাছ থেকে ১০ লিটারের মূল্য আদায় করলেও বাস্তবে সরবরাহ করা হচ্ছিল প্রায় ৯ লিটার তেল।
এ জালিয়াতির দায়ে দুটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। একই সঙ্গে ত্রুটিপূর্ণ ডিসপেন্সিং ইউনিটগুলো সিলগালা করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বিএসটিআই সূত্র বলছে, গতকাল রবিবার (৭ জুন) ও সোমবার (৮ জুন) ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় গ্রাহকদের জ্বালানি তেল পরিমাপে কারচুপি রোধে আলাদা দুটি মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়।
রবিবার রাজধানীর দারুস সালাম থানার কল্যাণপুর এলাকায় অবস্থিত ‘সোহরাব সার্ভিস স্টেশন’-এ অভিযান চালায় বিএসটিআই। পাম্পটির চারটি ডিসপেন্সিং ইউনিট পরীক্ষা করার সময় দুটিতে মারাত্মক কারচুপি ধরা পড়ে।
পরিমাপে দেখা যায়, প্রতি ১০ লিটার জ্বালানি তেলে ইউনিট দুটিতে যথাক্রমে ১ হাজার ৮০ মিলিলিটার এবং ৯৮০ মিলিলিটার তেল কম দেওয়া হচ্ছিল। অর্থাৎ গ্রাহকদের কাছ থেকে ১০ লিটারের দাম নিয়ে প্রায় ১ লিটার তেল কম দেওয়া হচ্ছিল।
এই অপরাধে ‘ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮’ অনুযায়ী সোহরাব সার্ভিস স্টেশনকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে ত্রুটিপূর্ণ ডিসপেন্সিং ইউনিট দুটি তাৎক্ষণিকভাবে সিলগালা ও বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এদিকে সোমবার মগবাজারের সাংবাদিক সেলিনা পারভীন স্মরণীতে অবস্থিত ‘মইন মটরস ফিলিং স্টেশন’-এ অভিযান চালানো হয়। সেখানকার অকটেন ডিসপেন্সিং ইউনিট পরীক্ষা করে প্রতি ১০ লিটারে ৮০ মিলিলিটার জ্বালানি তেল কম দেওয়ার প্রমাণ মেলে। এই পরিমাপ কারচুপির অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ত্রুটিপূর্ণ ইউনিটটি সিলগালা করা হয়।
মোবাইল কোর্ট অভিযান দুটি বিএসটিআইয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুন্নেসা খানম এবং সাবেকুন নাহারের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। অভিযানে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিএসটিআইয়ের পরিদর্শক (মেট্রোলজি) রাভী মোহাম্মদ ইতমাম, ফিল্ড অফিসার সুমাইয়া আফরোজ লিজা এবং পরিদর্শক (মেট্রোলজি) রেজওয়ানুল ইসলাম।
বিএসটিআই কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রাহকস্বার্থ রক্ষা এবং জ্বালানি তেলের পরিমাপে এ ধরনের কারচুপি রোধে জনস্বার্থে এমন অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।




