ডেঙ্গুতে মৃত্যুঝুঁকি কমাতে ২ হাজার চিকিৎসককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

ছবি: আগামীর সময়
ডেঙ্গুতে মৃত্যুঝুঁকি কমাতে সারা দেশে দুই হাজার চিকিৎসককে রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গুর টিকা চালুর বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা পর্যালোচনা করছেন। টিকার নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা যাচাই করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
মঙ্গলবার রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে ডেঙ্গু পরিস্থিতি, চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা, টিকা এবং মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম নিয়ে তিনি এ কথা জানান।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া রোগীদের অনেকে জ্বর হওয়ার তিন দিনের বেশি সময় পর হাসপাতালে আসছেন। পাশাপাশি পুরুষদের তুলনায় নারীদের মৃত্যুহার বেশি হওয়ার পেছনে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে সামাজিক আচরণের প্রভাব থাকতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের পুরুষ সদস্যদের আগে হাসপাতালে নেওয়া হয়, নারীরা চিকিৎসা পেতে দেরি করেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ডেঙ্গু রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের সহযোগিতায় সারা দেশে দুই হাজার চিকিৎসককে রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে তিন থেকে চার বছর আগের তুলনায় ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার প্রায় ৪০ শতাংশ কমানো সম্ভব হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ডেঙ্গুর টিকা চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। নতুন কোনো টিকা প্রয়োগের ক্ষেত্রে এর নিরাপত্তা, সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও জটিলতা বিবেচনা করা জরুরি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও ডেঙ্গুর টিকার ব্যবহার সীমিত রয়েছে। তাই বিশেষজ্ঞদের পর্যালোচনা ও বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
হামের টিকা নেওয়ার পরও ২৭ শতাংশ শিশুর শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনটি না দেখে এ বিষয়ে মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তবে টিকার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো হলো টিকার গুণগত মান, পরিবহনের সময় নির্ধারিত তাপমাত্রা বজায় রাখা বা কোল্ড চেইন নিশ্চিত করা এবং দুর্গম এলাকার শেষ শিশুটির কাছেও যথাযথভাবে টিকা পৌঁছানো।
ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়কে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগস্টের শেষ দিক থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে তরুণ স্বেচ্ছাসেবীদের অংশগ্রহণের পাশাপাশি সিটি করপোরেশনও মশা নিয়ন্ত্রণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করেছে।
তিনি আরও বলেন, অক্টোবরে বৃষ্টিপাত কমলেও মশার বংশবৃদ্ধি এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ার ঝুঁকি তৈরি করে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর করলে হবে না। বাসাবাড়ি, অফিস ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও জমে থাকা পানি থাকলে তা অপসারণ করতে হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতন অংশগ্রহণ জরুরি।



