২৫ বছর পর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে আহমদ ছফা, স্থানান্তরে বাধা নেই

ফাইল ছবি
লেখক ও চিন্তক আহমদ ছফার কবর মিরপুরের সাধারণ কবরস্থান থেকে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে স্থানান্তরে আর বাধা নেই। ইতোমধ্যে ঢাকা জেলা প্রশাসন থেকে অনাপত্তিপত্র পাওয়া গেছে।
আহমদ ছফার ভ্রাতুষ্পুত্র নূরুল আনোয়ার আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘লেখক আহমদ ছফার কবর মিরপুর সাধারণ কবরস্থান থেকে সরিয়ে মিরপুর শহীদ মুক্তিযোদ্ধা কবরস্থানে নিতে আর কোনো বাধা নেই।’
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রক্রিয়াটি শুরু হয় বলে জানান নূরুল আনোয়ার। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেটি অনুমোদিত হয়। মাস দুয়েক আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) এক সভায় আহমদ ছফার কবর স্থানান্তরের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হলেও ঢাকা জেলা প্রশাসনের অনুমতির জন্য বিলম্ব হচ্ছিল। সম্প্রতি জেলা প্রশাসন থেকেও অনাপত্তিপত্র পাওয়া গেছে। এখন দ্রুতই কবর স্থানান্তর হবে বলে আশা করছেন নূরুল আনোয়ার।
আহমদ ছফা মারা যাওয়ার পর তাকে মিরপুরে সাধারণ কবরে দাফন করা হয়েছিল। তৎকালীন সরকারের অনীহার কারণে আহমদ ছফা একজন মুক্তিযোদ্ধা হওয়া সত্ত্বেও তাকে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করার অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানান নূরুল আনোয়ার।
তার ভাষ্য, ‘সাধারণ কবরটি ৯৯ বছরের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই কবরটি তো নির্ধারিত সময়ের পর ভেঙে দেওয়া হবে। এ জন্য আমরা চেয়েছি তার কবরটি যেন বুদ্ধিজীবীদের যে অংশটি আছে, সেখানে স্থানান্তর করা হয়। আহমদ ছফার কবরটি যেন স্থায়ীভাবে রাখা হয়, এ জন্যই আবেদনটি করা হয়।’
এর আগে গত মে মাসে প্রাবন্ধিক ও শিক্ষক সলিমুল্লাহ খান আগামীর সময়কে বলেছিলেন, ‘আহমদ ছফা কি বুদ্ধিজীবী নন? তবে তাকে বুদ্ধিজীবীদের কবরস্থানে সমাহিত করা হয়নি কেন? এটা ছিল অবিচার। একটা অবিচারের অবসান হচ্ছে।
২০০১ সালের ২৮ জুলাই আহমদ ছফার মৃত্যুর পর তৎকালীন প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে তাকে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা সম্ভব হয়নি। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রক্রিয়াটি শুরু হয়েছিল, আর বর্তমান সরকার সেটি করছে। এ জন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই।





