অনুমোদন ছাড়াই এসেনসিয়াল ড্রাগসের এমডি নিয়োগ

বিদ্যমান আইন ও বিধি উপেক্ষা করে সরকারি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এসেনসিয়াল ড্রাগস্ কোম্পানি লিমিটেডের (ইডিসিএল) নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বোর্ড সভার অনুমোদন ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটির এই পদে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন আ কা মো. আশরাফুজ্জামান। তাকে নিয়োগ দিয়ে গত বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। তবে গতকাল শনিবার রাত ৯টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রজ্ঞাপনটি খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘দ্য কোম্পানি অ্যাক্ট, ১৯৯৪-এর আওতায় মেমোরেন্ডাম অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েশন অব এসেনসিয়াল ড্রাগস্ কোম্পানি লিমিটেডের ৫৪ (৩) ধারা অনুযায়ী আ কা মো. আশরাফুজ্জামানকে এই নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। শর্তানুযায়ী, অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে আগামী এক বছর মেয়াদে তিনি এসেনসিয়াল ড্রাগস্ কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালন করবেন।’ এই নিয়োগের অন্যান্য শর্তাবলি চুক্তিপত্র দ্বারা নির্ধারিত হবে এবং জনস্বার্থে এই আদেশ জারি করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে নিয়োগ পেয়ে গতকালই যোগদানপত্র দিয়েছেন নতুন এমডি আ কা মো. আশরাফুজ্জামান।
নতুন এমডি নিয়োগে বোর্ড সভার অনুমোদন নেওয়া হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন ইডিসিএলের পরিচালনা পর্ষদের (বোর্ড) সদস্য ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ডা. আশরাফী আহমদ। গতকাল রাতে তিনি আগামীর সময়কে বললেন, ‘সর্বশেষ বোর্ড সভায় নতুন এমডি নিয়োগের বিষয়ে কোনো এজেন্ডা ছিল না। আমরা বিষয়টি জানি না। ফলে বোর্ডের অনুমোদনের প্রশ্নই আসে না।’
এ ঘটনায় স্বাস্থ্য খাতের সর্বত্র চলছে তোলপাড়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ (বোর্ড) রয়েছে। তাদের অনুমোদনক্রমে প্রস্তাব যায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে। তারপর প্রস্তাবিত ব্যক্তিকে এমডি পদে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রণালয়। এ নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের নিয়ম মানা হয়নি। ইডিসিএল বোর্ডের চেয়ারম্যান পদাধিকার বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। আর বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ পরিচালক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত ও স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী সরকারি সফরে জেনেভায় রয়েছেন। তাদের আগামী ১ জুন দেশে ফেরার কথা।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সরকারি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় সামাদ মৃধাকে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ঢাকা অফিসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করে। অভিযোগ রয়েছে, বহিরাগতরা এসে সামাদ মৃধাসহ অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে পুলিশি পাহারায় তাদের কার্যালয় থেকে বের করে আনা হয়। ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর সামাদ মৃধাকে এমডি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, দ্য কোম্পানিজ অ্যাক্ট, ১৯৯৪-এর আওতায় এসেনসিয়াল ড্রাগস্ কোম্পানি লিমিটেডের মেমোরেন্ডাম অ্যান্ড আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশনের ৫৩(৩) অনুচ্ছেদের আলোকে এবং ইডিসিএলের ১৮৫তম বোর্ড সভার অনুমোদনক্রমে মো. সামাদ মৃধাকে (পিতা মৃত মো. জৈনদ্দিন মৃধা, স্থায়ী ঠিকানা: আটরশি, সদরপুর, ফরিদপুর) এসেনসিয়াল ড্রাগস্ কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নির্ধারিত শর্তে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হলো।
বিষয়টি নিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হলে একাধিক কর্মকর্তা জানালেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রস্তাব ও নির্দেশনা পাওয়ার পরই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে কী হয়েছে, তা আমরা জানি না।






