গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠক
বিজয় দিবসে আগারগাঁওয়ে নতুন সচিবালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
- পূর্বাচল ও ঝিলমিলে ১,০৭৪ প্লট বরাদ্দে অনিয়ম

সংগৃহীত ছবি
আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নতুন সচিবালয়ের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। এ লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এদিকে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পে রাজনৈতিক বিবেচনায় বরাদ্দ দেওয়া প্লটের মধ্যে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ৮৭৪টি এবং ঝিলমিল আবাসিক এলাকার ২০০টি প্লটের বরাদ্দে অনিয়মের প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। এসব প্লটের নথি নিয়ে কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রয়েছে।
রবিবার জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে জানানো হয় এসব তথ্য। কমিটির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশার সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। রাতে সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে এ তথ্য।
বৈঠকে জানানো হয়, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গুলশান, বনানী, উত্তরা, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প ও ঝিলমিল আবাসিক এলাকায় রাজনৈতিক বিবেচনায় মোট ১ হাজার ৪১৩টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৯৪৪টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে।
রাজউকের বিভিন্ন প্রকল্পে এসব প্লট বরাদ্দে অনিয়ম বা বিধিবহির্ভূত কার্যক্রম হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে হাইকোর্ট বিভাগের একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত কমিটি প্লটের নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। এ পর্যন্ত পূর্বাচলের ৮৭৪টি ও ঝিলমিলের ২০০টি প্লটের বরাদ্দে অনিয়মের প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। রাজনৈতিক বিবেচনায় বরাদ্দ ও অনিয়মের বিষয়গুলো সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে বিচার-বিশ্লেষণের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়।
বৈঠকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরস্থানের মূল অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং সংলগ্ন উদ্যান ও প্রাঙ্গণের অসমাপ্ত সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিচ্ছন্নতার কাজ দ্রুত শেষ করার অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মূল অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের কাজ দ্রুত শেষ করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজটি শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
সরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের জন্য ‘এনহ্যান্সিং ক্লিন এনার্জি অ্যাকসেস থ্রু রুফটপ সোলার পিভি ইন পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ শীর্ষক প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় ৩৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। সংশ্লিষ্ট ভবনে ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে বলে বৈঠকে জানানো হয়।
এ ছাড়া জাতীয় সংসদ ভবনকেন্দ্রিক গণপূর্ত অধিদপ্তরের ২০২৬ সালে সম্পন্ন করা বিভিন্ন কাজের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। সংসদ ভবনের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা এবং এর ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বৈঠকে অংশ নেন কমিটির সদস্য ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, মো. লুৎফুজ্জামান বাবর, শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল, এম মঞ্জুরুল করিম রনি, মো. রুহুল আমিন ও মো. তাজউদ্দীন খান উপস্থিত ছিলেন। এ সময় মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অধীন দপ্তর ও সংস্থার প্রধান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।




