হয়তো

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
সময়ের সঙ্গে বিশ্ব যত উন্নত হচ্ছে ততই ছোট হয়ে আসছে মানুষের বিশ্রাম বা শান্তির জায়গা। প্রকৃতি বা পরিবেশে একটুখানি নির্জনতা খোঁজা মানুষ ভবিষ্যতে এক টুকরো শান্তি খুঁজে পাবে তার ঘরের রান্নাঘরে। সারা দিনের মিটিং, অসংখ্য নোটিফিকেশন, ট্রাফিকের হর্ন আর ডেডলাইনের চাপ পেরিয়ে দরজা বন্ধ করার পর যে জায়গাটায় একটু নিঃশ্বাস ফেলা যাবে, সেটিই হবে রান্নাঘর। ভবিষ্যতের ভিন্নধর্মী রান্নাঘর নিয়ে পূর্বাভাস দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎবিদ উইলিয়াম হাইহাম। ২০২৫ সালের অক্টোবরে লন্ডনে হওয়া ‘দ্য ফিউচার কিচেন’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় ভবিষ্যতের রান্নাঘর নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। উইলিয়ামের ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে একই দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক ম্যাগাজিন ও মিডিয়া ব্র্যান্ড কেবিবি রিভিউ।
আগামীর রান্নাঘর শুধু রান্নার জায়গা থাকবে না। হবে বিশ্রামের জায়গা, গল্পের জায়গা, মানুষের সঙ্গে মানুষের আবার সংযোগ প্রতিষ্ঠার স্থান। উইলিয়ামের মতে, ভবিষ্যতের রান্নাঘরকে বদলে দেবে মূলত তিনটি বিষয়, শান্তি, যত্ন ও কমিউনিটি। ভবিষ্যতে রান্নাঘর এবং সেখানে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিতে থাকবে প্রযুক্তি। তবে মজার ব্যাপার, সেই প্রযুক্তি যত স্মার্ট হবে, তার উপস্থিতি তত কম চোখে পড়বে। কেননা ভবিষ্যতের আসল বিলাসিতা হয়তো বিশাল রান্নাঘর বা চকচকে ক্যাবিনেট হবে না। বরং আসল বিলাসিতা হবে মানুষের মানসিক স্বস্তি। উইলিয়াম বলেছেন, ‘আমরা চাই সবকিছু যেন সহজে ব্যবহারযোগ্য, শান্ত ও প্রশান্তিদায়ক হয়।’ তিনি আরও যোগ করেছেন, ‘প্রযুক্তির কাজ হওয়া উচিত আমাদের জীবনকে সহায়তা করা, মনোযোগ আকর্ষণের জন্য চেঁচামেচি করা নয়। মানুষ তাদের ঘরে কম হট্টগোল বা নাটকীয়তা চায়।’ ভবিষ্যতের কথা বলতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, প্রযুক্তি রান্নাঘরে পরিবর্তন আনতেই থাকবে, তবে তা হবে সূক্ষ্ম ও নিখুঁত উপায়ে। তার মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গৃহস্থালির যন্ত্রপাতিগুলোকে আরও ব্যক্তিগত ব্যবহারের উপযোগী করে তুলবে, এগুলো ব্যবহারকারীর অভ্যাসের সঙ্গে মানিয়ে নেবে এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম আরও সহজ করে দেবে।



