কিন্তু

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর কোথাও উচ্ছ্বাস, কোথাও হতাশা; কোথাও মিষ্টি বিতরণ, আবার কোথাও নীরব কান্না। কিন্তু এই ফলাফলকে শুধু পাস-ফেলের সংখ্যা দিয়ে বিচার করলে চলবে না; বরং এবারের ফল আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে নতুন করে ভাবার সুযোগ করে দিয়েছে।
এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। অথচ গত বছর পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। অর্থাৎ এবার পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
তবে প্রশ্ন হলো, এই পতন কি শিক্ষার্থীদের মেধার অবনমন, নাকি মূল্যায়ন ব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রতিফলন? যদি মূল্যায়ন আরও কঠোর ও বাস্তবভিত্তিক হয়ে থাকে, তাহলে ফল কমে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু, সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, শিক্ষকদের পাঠদান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক পরিবেশ— সবকিছুকেই নতুন করে পর্যালোচনা করতে হবে।
কারণ, একটি পরীক্ষায় একজন শিক্ষার্থী ফেল করলেই তার মেধা শেষ হয়ে যায় না। আবার, জিপিএ ৫ পেলেই সে জীবনের পরীক্ষায় সফল হবে— এমন নিশ্চয়তাও নেই। বরং শিক্ষা হওয়া উচিত জ্ঞান, যুক্তি, নৈতিকতা ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যম।
এবারও জিপিএ ৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে মেয়েরা ছেলেদের পেছনে ফেলেছে। অথচ সার্বিক ফলাফলে যে বৈষম্য ও দুর্বলতার চিত্র ফুটে উঠেছে, তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। কিছু প্রতিষ্ঠানে শতভাগ পাস হয়েছে, আবার কোথাও ফল অত্যন্ত হতাশাজনক।
সুতরাং, এবার শুধু ফল উদ্যাপন নয়; বরং ফল বিশ্লেষণ জরুরি। কেন পাসের হার কমল, কোন বিষয়ে শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে, কোথায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকের ঘাটতি— এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে। নইলে প্রতি বছর ফল প্রকাশ হবে, আনন্দ-হতাশা আসবে-যাবে; কিন্তু শিক্ষার মূল সংকট থেকেই যাবে।
এসএসসির ফল তাই শুধু একটি পরীক্ষার ফল নয়; এটি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থারই আয়না। আর, সেই আয়নায় যা দেখা যাচ্ছে, তা দেখে আমাদের এখনই ভাবতে হবে— আমরা আসলে কেমন শিক্ষা চাই?
l




