দেখা যাক

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ক্লান্ত দুপুর। নিস্তেজ শহর। প্রচণ্ড গরমে রাস্তায় মানুষ, পশু-পাখি একটিও নেই। বৃষ্টিপাতও অনিয়ম। কোথাও বন্যায় ডুবে যাচ্ছে জমি, তো কোথাও মাঠে শুকিয়ে যাচ্ছে ফসল। সব জায়গায় বাড়ছে বিদ্যুতের চাহিদা। দৃশ্যগুলো ভিন্ন মনে হলেও সব কটির মূল সমস্যা একটাই, জলবায়ু পরিবর্তন। প্রাকৃতিক এ সংকট শুধু পরিবেশেই তার তাণ্ডব ফেলবে না, ভবিষ্যতে বৃদ্ধি পাওয়া বৈশ্বিক তাপমাত্রার আঁচ এসে ছোঁবে বিশ্বের অর্থনীতিতেও। ২০৭০-৯০ সালের মধ্যেই আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি জিডিপির ৫০ শতাংশ ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। উদ্বেগজনক এ তথ্য উঠে এসেছে যুক্তরাজ্যের ইনস্টিটিউট অ্যান্ড ফ্যাকাল্টি অব অ্যাকচুয়ারিসের ২০২৫ সালের একটি গবেষণায়। একই বছর গবেষণার ফল নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে সেই দেশের গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। গবেষণা রিপোর্টে বলা হয়, রাজনৈতিক নেতারা যদি কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং প্রকৃতি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে অবিলম্বে পদক্ষেপ না নেন, তাহলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ভবিষ্যতে আরও বিপর্যয়কর হবে। এতে বিশ্ব অর্থনীতি তার মোট জিডিপির ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হারাতে পারে বলে ধারণা গবেষকদের। দাবানল, বন্যা, খরা, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্যহীনতার মতো জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ঝুঁকি এমন অবস্থায় আরও বেড়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিজ্ঞানী দল। ২০৫০ সালে গড়ে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে প্রাণহানি হতে পারে আনুমানিক ৪০০ কোটি মানুষের। গবেষণা রিপোর্টের প্রধান লেখক স্যান্ডি ট্রাস্ট বলেছেন, এ পরিস্থিতি এড়ানোর মতো কোনো বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা নেই। তিনি আরও বলেছেন, বৈশ্বিক ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা গড়ে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক উৎপাদন অন্তত ২ শতাংশের সমান ক্ষতি হতে পারে, এমন অর্থনৈতিক পূর্বাভাসগুলো ছিল ভুল। আর এসব পূর্বাভাস রাজনৈতিক নেতাদের তাদের নীতিমালার ঝুঁকি সম্পর্কে অন্ধ করে রেখেছিল। রিপোর্টে বলা হয়, ‘সর্বনাশের যে ঝুঁকি রয়েছে, তা তারা (রাজনৈতিক নেতা) স্বীকার করে না। তারা শুধু মোটামুটি সঠিক নয়; বরং পুরোপুরি ভুল।’ তার মতে, প্রকৃতিই মানবজাতির অস্তিত্বের ভিত্তি। এটি খাদ্য, পানি ও বাতাসের পাশাপাশি অর্থনীতিকে সচল রাখার কাঁচামাল ও শক্তি সরবরাহ করে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যেকোনো হুমকি এলে তা এড়াতে অবশ্যই পদক্ষেপ নিতে হবে বলে জানালেন তিনি।







