সূর্যগ্রহণের ফ্রেমে স্কেটার ড্যানি লিওন

স্কেটবোর্ডিংয়ের কৌশলের সঙ্গে মিলিয়ে অনন্য এক দৃশ্য তৈরি করেছেন স্পেনের অলিম্পিক স্কেটবোর্ডার ড্যানি লিওন। ছবি: আল জাজিরা
পূর্ণ সূর্যগ্রহণের বিরল মুহূর্তকে নিজের স্কেটবোর্ডিংয়ের কৌশলের সঙ্গে মিলিয়ে অনন্য এক দৃশ্য তৈরি করেছেন স্পেনের অলিম্পিক স্কেটবোর্ডার ড্যানি লিওন। চাঁদ সূর্যকে ঢেকে দেওয়ার ঠিক মুহূর্তে স্কেটবোর্ড নিয়ে আকাশে উঠে একটি এরিয়াল ট্রিক করেন তিনি। নিখুঁত সময় ও ক্যামেরার অবস্থানের সমন্বয়ে ধারণ করা দৃশ্যটিতে মনে হয়, গ্রহণে ঢাকা সূর্যের সামনেই উড়ে যাচ্ছেন লিওন।
একটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখতে পৃথিবীর অনেক মানুষকে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়। কোথাও সেই অপেক্ষা কয়েক দশকের, কোথাও আরও দীর্ঘ। তাই ১২ আগস্টের পূর্ণ সূর্যগ্রহণ ঘিরে ইউরোপজুড়ে ছিল বিশেষ প্রস্তুতি। গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, পর্তুগাল ও স্পেনসহ কয়েকটি অঞ্চলের ওপর দিয়ে গিয়েছিল পূর্ণগ্রহণের পথ। ইউরোপের আরও বিস্তৃত অঞ্চল থেকে দেখা যায় আংশিক গ্রহণ।
বাংলাদেশের মানুষের কাছে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ আরও বিরল। নাসার হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশের ওপর দিয়ে পরবর্তী পূর্ণ সূর্যগ্রহণের পথ যাবে ৩ জুন ২১১৪ সালে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে আংশিক ও বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা গেলেও পূর্ণগ্রহণের জন্য অপেক্ষা করতে হবে প্রায় ৯০ বছর।
গ্রহণের দিন কেউ টেলিস্কোপ নিয়ে দাঁড়িয়েছেন, কেউ ক্যামেরার লেন্স ঠিক করেছেন সূর্যের দিকে। আলোকচিত্রী ও ভিডিও নির্মাতারা আগে থেকেই হিসাব করেছিলেন কাঙ্ক্ষিত মুহূর্তের ফ্রেম। কেউ পাহাড়, কেউ সমুদ্র, কেউবা স্থাপত্যকে সূর্যগ্রহণের ছবির অংশ বানিয়েছেন।
ড্যানি লিওন অবশ্য বেছে নিয়েছিলেন আরও অস্বাভাবিক কিছু। অন্যরা যখন আকাশের দিকে ক্যামেরা তাক করেছিলেন, লিওন ঠিক করেছিলেন, সেই দৃশ্যের অংশ হবেন তিনি নিজেই।
চাঁদ যখন সূর্যের সামনে এসে আলো ঢেকে দিচ্ছিল, ঠিক সেই সময় নিজের স্কেটবোর্ড নিয়ে আকাশে উঠে যান লিওন। মাঝ-আকাশে করেন একটি এরিয়াল ট্রিক। ক্যামেরার অবস্থান, সূর্যগ্রহণের নির্দিষ্ট মুহূর্ত এবং তার লাফের সমন্বয়ে তৈরি হয় বিরল সেই ফ্রেম।
দৃশ্যটি দেখতে কয়েক সেকেন্ডের হলেও এর পেছনে ছিল সময়ের নিখুঁত হিসাব। একটি সাধারণ স্কেটবোর্ডিং ট্রিক ঠিকমতো না হলে আবার চেষ্টা করা যায়। কিন্তু সূর্যগ্রহণের নির্দিষ্ট মুহূর্ত দ্বিতীয়বার ফিরে আসে না। লাফ কয়েক সেকেন্ড আগে বা পরে হলেই বদলে যেত পুরো দৃশ্য। তাই সূর্য, চাঁদ, ক্যামেরা ও স্কেটবোর্ডারের অবস্থানকে একই ফ্রেমে আনার কাজটিই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
এই কারণে লিওনের ভিডিওটি শুধু একটি স্কেটবোর্ডিং ট্রিকের ভিডিও হয়ে থাকেনি। একই ফ্রেমে সেখানে ধরা পড়েছে একটি বিরল মহাজাগতিক ঘটনা এবং একজন ক্রীড়াবিদের পরিকল্পিত পারফরম্যান্স।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তটিকে তার ‘জীবনের সেরা মুভ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন লিওন। ভিডিওটি প্রকাশের পর দ্রুতই তা নেটিজেনদের নজর কাড়ে।
এই সূর্যগ্রহণের ছবি কম ওঠেনি। কোথাও অন্ধকার সূর্যের চারপাশে দেখা গেছে উজ্জ্বল করোনা, কোথাও দিগন্তে অস্বাভাবিক আলো, কোথাও মানুষের ছায়ামূর্তি। বিজ্ঞানীরা বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের জন্য তথ্য সংগ্রহ করেছেন, আর হাজারো মানুষ ক্যামেরায় ধরে রেখেছেন কয়েক মিনিটের সেই অন্ধকার। তবে অসংখ্য ছবির মাঝে ড্যানি লিওনের ছবিটি আলাদা। কারণ সেখানে শুধু সূর্য ও চাঁদের বিরল মহাজাগতিক অবস্থানই নেই, আছে মানুষের পরিকল্পনা, সময়জ্ঞান ও সৃজনশীলতার একটি গল্পও।







