বিশ্ব প্যাঙ্গোলিন দিবস আজ, কেমন আছে প্রাণীটি

সংগৃহীত ছবি
প্রতি বছর ফেব্রুয়ারির তৃতীয় শনিবার বিশ্ব প্যাঙ্গোলিন দিবস পালিত হয়। সে অনুযায়ী এ বছরও দিবসটি পালিত হচ্ছে। যার মাধ্যমে গুরুত্ব পাচ্ছে প্যাঙ্গোলিন বা বনরুই সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এর অবৈধ চোরাচালান রোধ করা।
এই দিবসটি প্রথম পালিত হয় ২০১২ সালে। যা বিশ্বব্যাপী প্রাণী কল্যাণ সংস্থা এবং ব্যক্তিদের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়।
প্যাঙ্গোলিন বা বনরুই বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পাচার হওয়া স্তন্যপায়ী প্রাণী। অবৈধ শিকারের কারণে এশিয়া এবং আফ্রিকায় এর সংখ্যা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে।
প্রাণীটি পাচারের টার্গেট হয় মূলত তাদের আঁশ ও মাংসের জন্য।
বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত কোনো স্বাস্থ্য উপকারিতা না থাকা সত্ত্বেও প্যাঙ্গোলিনের আঁশ প্রায়শই ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া প্রাণীটির মাংস কিছু অঞ্চলে সুস্বাদু খাবার হিসেবে বিবেচিত হয়।
লাজুক স্বভাবের প্রাণী প্যাঙ্গোলিনদের জিহ্বা ৪০ সেন্টিমিটার লম্বা এবং এতে অবিশ্বাস্যভাবে আঠালো লালা থাকে। যার মাধ্যমে তারা পিঁপড়া এবং উইপোকা সহজে ধরতে পারে।
প্যাঙ্গোলিনরা প্রত্যেকে প্রতি বছর আনুমানিক ৭ কোটি পোকামাকড় খায়। এর মাধ্যমে প্রাণীটি পোকামাকড়ের বিস্তারে বাধা দেয় এবং ফসলকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে।
সবচেয়ে বড় প্যাঙ্গোলিনের ওজন হয় প্রায় ৩৩ কেজি। এরা দৈর্ঘ্যে হয় ১৮০ সেন্টিমিটারের মতো। সবচেয়ে ছোট প্যাঙ্গোলিনের ওজন হয় ৩.৬ কেজি পর্যন্ত।
প্যাঙ্গোলিন রয়েছে আট প্রজাতির। এগুলো
হলো— ফিলিপাইন প্যাঙ্গোলিন, সুন্দা প্যাঙ্গোলিন, চাইনিজ প্যাঙ্গোলিন, ইন্ডিয়ান প্যাঙ্গোলিন, টেমিঙ্কের প্যাঙ্গোলিন, হোয়াইট-বেলিড প্যাঙ্গোলিন, ব্ল্যাক-বেলিড প্যাঙ্গোলিন, জায়ান্ট গ্রাউন্ড প্যাঙ্গোলিন।
আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন)-এর তথ্য অনুসারে, এদের মধ্যে ছয়টি প্রজাতি বিপন্ন বা সংকটাপন্ন।

