যদি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
আপনি ভাবুন— বুড়িগঙ্গার পাড়ে একসময় ছিল শান বাঁধানো ঘাট, ছিল অজু-গোসলের সুব্যবস্থা। নদীপাড়ের মসজিদগুলোয় যারা নামাজে যেতেন, তারা সেখানেই অজু করতেন। শিশুরা সাঁতার কেটে এপার থেকে ওপার যেত। ভাবছেন এটি নিছকই কল্পনা অথবা আমার বানানো গল্প? না এটি গল্প নয়।
আমার কিছু স্মৃতির সঙ্গেও নদীটি জড়িত। বুড়িগঙ্গা সেতু নির্মাণকালে ওখানে যেতাম, কেরানীগঞ্জের জিঞ্জিরা মাঠে খেলতাম। এরপর গোসল সারতাম বুড়িগঙ্গায়।
তাহলে আরও ভাবুন— একসময় বুড়িগঙ্গার পানি যে কতটা পরিষ্কার ছিল, মানুষ সেখানে গোসল করতেন। এখন সেই বুড়িগঙ্গার আশপাশে দাঁড়ালে নাককেও আলাদা করে সাহস দিতে হয়। পানি দেখে কি বোঝার কোনো উপায় আছে, এতে পানি নাকি ঢাকার সব আবর্জনার সম্মিলিত ঠিকানা! এখন নদীটির বুকে তাকালে মনে হয় সে নিজেই বলছে, ‘ভাই, আমাকে আর নদী বলে ডেকো না, আমি এখন ময়লার ডিপো।’
শুধু ময়লা-আবর্জনাই নয়, নদীও এখন সংকুচিত হয়ে এসেছে। দখলদাররা বুড়িগঙ্গাকে কতটা আপন করে নিয়েছে, তা নদীর কিনারে গেলেই বোঝা যায়। আপনি-আমি বুড়িগঙ্গার পাড়ে গেলে মরতে বসা নদীকে নিয়েই ভাবব। তবে একজন দখলদার? তিনি নদী দেখতে গেলে ভাববেন— ‘আহ! নদীর পাড় এত খালি পড়ে আছে কেন? কিছু একটা করা দরকার!’ তারপর একে একে দখল, স্থাপনা। বর্জ্য ফেলার মহোৎসব তো চলছেই। সব মিলিয়ে নদীটির অবস্থা এমন হয়েছে, তার পুরোনো ছবি দেখলে আজকের বুড়িগঙ্গা নিজেই হয়তো লজ্জা পাবে।
মাঝেমধ্যে আমার মাথায় একটি মজার ভাবনা আসে— এই যে বুড়িগঙ্গা এখনো বেঁচে আছে, এত অত্যাচারের পরও সে এখনো টিকে আছে— এটি কি বাংলাদেশের সবচেয়ে ধৈর্যশীল নদী?
তবে হাসির আড়ালে বিষয়টি অত্যন্ত ভয়ংকর। একটি নদী যখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়, তখন কি শুধু নদী নষ্ট হয়? মানুষ কেন বুঝতে চায় না। নদী নষ্ট হলে নষ্ট হয় শহরের পরিবেশ, মানুষের স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ। আসলে কত দখলদারের মন নষ্ট হলে একটি নদী এভাবে নষ্ট হয়? আমরা বুড়িগঙ্গাকে নিয়ে আর কত স্মৃতিচারণ করব? এখন দরকার দখলমুক্ত, দূষণমুক্ত নদী ফিরিয়ে আনার যথাযথ উদ্যোগ। তাতে যদি আবার বলা যায়— ‘এই নদীতে একসময় গোসল করা যেত।’ এটি শুধু গল্প নয়। এটি শুধু কল্পনা নয়। শুধু বাস্তব।






