দেখা যাক

ভবিষ্যতের কোনো এক সকালে পৃথিবী হয়তো এমন এক সত্যের মুখোমুখি হবে, যার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নয় কেউ। সেই সময় চারপাশে মানুষ থাকবে, তবে সিদ্ধান্ত নেবে মেশিন। বন্ধুত্ব থাকবে, তবে বন্ধুটি মানুষ নয়, হবে রোবট। কোম্পানি থাকবে, তবে সেখানে থাকবে না কোনো কর্মী। আর সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার, মানুষ বুঝতেই পারবে না, কখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) তার সহকারী থেকে হয়ে উঠেছে জীবনের অংশ! ২০৩৫ সালে এআইর কারণে মানবজাতি নিজেদের সম্প্রদায় ও সংস্কৃতিকে গড়ে তুলবে নতুন করে। ৯ বছর পরের এমন পূর্বাভাস দিয়েছেন সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি ভবিষ্যৎবিদ পল স্যাফো। যুক্তরাষ্ট্রের ইলন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বিং হিউম্যান ইন ২০৩৫’ শীর্ষক একটি পাবলিকেশনসে এ বিষয়ে একটি প্রবন্ধ লিখেছেন তিনি।
পল স্যাফোর মতে, শক্তিশালী প্রযুক্তি শুধু মানুষের কাজের ধরন বদলায় না, বদলে দেয় মানুষকেও। ২০৩৫ সালের মধ্যে এআই শুধু কম্পিউটারের ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি ছড়িয়ে পড়তে পারে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের প্রায় সর্বত্র। বর্তমান সময়ের মতো ভবিষ্যতেও একটি বড় প্রশ্ন থাকবে, এআই কি আসলেই বুদ্ধিমান কি না। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় আসবে অ্যান্টি-এআই। অর্থাৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিরোধী আলোচনা ও ব্যক্তিগত সাইবার সুরক্ষা। স্যাফোর বিশ্বাস, ২০৩৫ সাল ও এর পরে যুদ্ধক্ষেত্রে মানুষের চেয়ে অনেক বেশি প্রচলিত হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত রোবোটিক অস্ত্রব্যবস্থা। ভবিষ্যতের যুদ্ধ বর্তমানের তুলনায় হয়ে উঠবে অনেক বেশি সহিংস ও প্রাণঘাতী। তখন থাকবে না কোনো সুনির্দিষ্ট ‘ফ্রন্ট লাইন’; যুদ্ধের ময়দানে প্রাণ হারানো যোদ্ধাদের তুলনায় বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা অনেক বেশি হবে। তবে এসব পূর্বাভাসের মধ্যে সবচেয়ে মজার ভবিষ্যদ্বাণী হলো, ২০৩৫ সালের একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে ‘সিনথেসপিয়ান’, অর্থাৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে সৃষ্ট এক কৃত্রিম অভিনেতা জিতবে ‘সেরা পার্শ্ব-অভিনেতা’র পুরস্কার। আর ২০৪০ সালের আগেই এআই জিতে নেবে ‘সেরা অভিনেতা’র পুরস্কার। সাধারণ রক্ত-মাংসের অভিনেতাদের প্রতি দর্শকদের যে আবেগ, এই সুপারস্টার সিনথেসপিয়ানদের প্রতি তার চেয়েও অনেক বেশি গভীরভাবে আকৃষ্ট হয়ে পড়বেন সিনেমাপ্রেমীরা।



