হতে হতেও হলো না পঞ্চাশ, থামল ‘সুগারের’ যাত্রা

সংগৃহীত ছবি
সাধারণত কবুতর বা ঘুঘু জাতের পাখির গড় আয়ু প্রায় ২০ বছর। কিন্তু সেই সীমা অনেক আগেই ছাড়িয়ে গিয়েছিল ‘সুগার’ নামের এক সাদা পায়রা। বন্দি অবস্থায় বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘজীবী পায়রা হিসেবে ইতিহাস গড়েছিল পাখিটি।
১৯৮১ সালের ২৩ জুন জন্ম নেওয়া এই স্নিগ্ধ সাদা পায়রাটি তার জীবনের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছে তার মানবসঙ্গী ৭৭ বছর বয়সী ডিওয়েইন ওরেন্ডারের সান্নিধ্যে। একসঙ্গে টিভি দেখা, প্রিয় অনুষ্ঠান উপভোগ করা আর গান শোনাই ছিল তাদের প্রতিদিনের রুটিন। তাদের সম্পর্ক ছিল বন্ধুত্বের চেয়েও গভীর, যেন একে অপরের ছায়া।
ডিওয়েইন জানান, সে খুবই সুখী ও শান্ত ছিল। তাকে ভীষণ ভালোবাসত। তারা সেরা বন্ধু ছিলেন বলে জানান।
তাদের এই নিবিড় সম্পর্কের প্রমাণ মেলে একাধিক ঘটনায়। একবার ডিওয়েইন হাসপাতালে ভর্তি হলে সুগার এতটাই অস্থির হয়ে পড়ে যে খাঁচার মেঝেতে পড়ে থাকত, ঠিকমতো খেতও না। প্রিয় মানুষটি ফিরে আসার পরই আবার আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।
আরেকবার ডিওয়েইন একটি রেকর্ডিং সেশনের জন্য ন্যাশভিলে গেলে সুগারকে মায়ের কাছে রেখে যান। সেখানেও একই ঘটনা ঘটে। সুগার খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দেয়, যেন প্রিয় সঙ্গীর জন্য শোকে ডুবে যায়। পরে ডিওয়েইন ফিরে এলে আবার প্রাণ ফিরে পায় পাখিটি।
সুগার বন্দি অবস্থায় সবচেয়ে দীর্ঘজীবী পায়রার আগের রেকর্ডধারীকে ১৫ বছরের বেশি ব্যবধানে ছাড়িয়ে যায়। ডিওয়েইনের ইচ্ছা ছিল, সুগার যেন ৫০ বছর বয়সে পৌঁছায়। তখন তাকে নিয়ে বড়সড় উদযাপন করবেন। তার প্রিয় খাবার যেমন সম্পূর্ণ গমের বাগেলের বাড়তি টুকরো আর মিশ্রিত পপকর্ন দিয়ে।
কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি। ইস্টার সানডের দিনে চিরবিদায় নেয় সুগার। তবুও তার এই দীর্ঘ জীবন, ভালোবাসার গল্প আর বিশ্বরেকর্ড—সবই থেকে যাবে তার প্রিয় মানুষের হৃদয়ে এবং বিশ্বজুড়ে অসংখ্য মানুষের স্মৃতিতে।
সূত্র: অডিটি সেন্ট্রাল















