বোধ হয়

রাত ১১টা। পাঁচ বছরের একটি শিশু ঘুমাতে যাওয়ার আগে ট্যাব হাতে নিয়ে চ্যাটবটে প্রশ্ন করল, ‘চাঁদ আমাদের সঙ্গে সঙ্গে চলে কেন?’ উত্তর এল মুহূর্তের মধ্যে। শিশুটি আরও একটি প্রশ্ন করল। তারপর আরেকটি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) থামল না, বিরক্ত হলো না, ঘুমিয়েও পড়ল না। কিছুক্ষণ পর শিশুটি হাসতে হাসতে বলল, ‘তুমি আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু!’ বর্তমানে অনেক ঘরের গল্প এটি। ছোট বাচ্চাদের হাতে হাতে স্মার্টফোন ও ডিভাইস থাকায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ঘিরে বড় হওয়া প্রথম প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎবিদ থমাস ফ্রে। তার মতে ডিজিটাল দুনিয়ায় বেশি সময় ব্যয় করার কারণে আজকের শিশুরা ভবিষ্যতে হারাতে পারে আবেগ, ওপরকে বোঝার চিন্তাশক্তি এবং কমে আসতে পারে তাদের ধৈর্যশক্তি।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উদ্বেগজনক পূর্বাভাস চলতি মাসে ফ্রে দিয়েছেন তার ওয়েবসাইটে।
ফ্রে জানিয়েছেন আজকের বিশ্বে এমন এক প্রজন্ম ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে, যার শৈশবের অনেক বড় একটি অংশে যুক্ত আছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। আজকের শিশুরা এআইয়ের সঙ্গে শুধু পড়াশোনা করছে না। তারা প্রশ্ন করছে, গল্প শুনছে, ভাষা শিখছে, আইডিয়া সৃষ্টি করছে এবং কখনো কখনো ব্যক্তিগত কথাও বলছে। ফলে এআই শুধু একটি প্রযুক্তি নয়; হয়ে উঠছে তাদের বেড়ে ওঠার পরিবেশেরও অংশ। সাধারণত এআই কোনো কিছুতেই বিরক্তি দেখায় না। বলে না তার আছে সময়স্বল্পতা। একটি শিশুর বেড়ে ওঠার বয়সে সে নানান জিজ্ঞাসা করলে তার পরিবারের সদস্যরা না চাইতেও দেখায় কিছুটা অনীহা। এতে সে শেখে ধৈর্য ধরা, অপেক্ষা করা, সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ এবং ‘না’ শুনলে প্রত্যাখ্যান হওয়ার পর এগিয়ে যাওয়া। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে অধিক সময় ব্যয় করায় মানবজীবনের এসব গুরুত্বপূর্ণ অংশ শেখা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে এআই ঘিরে বড় হয়ে ওঠা প্রথম প্রজন্ম।



