সুতরাং

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
শুক্রবার সকালে ঘুম থেকে জেগেই হাতে পাব বউয়ের বাজারের ফর্দ। এটা অবধারিত। এবারের ফর্দটা বেশ লম্বাই হবে— ইঙ্গিত পেলাম আগের রাতেই। ছেলেমেয়ের পছন্দের বাজার তো থাকবেই। বাজেটের সঙ্গে বাজারদর মিলবে না জেনেও বাজারে যাব। আর মনে মনে শপথ করে ঘুমাতে যাব, সকালে বাজারে গিয়ে কোনো দোকানদারের সঙ্গে ঝগড়া করব না। দাম বেশি বললেও শান্ত থাকব, দু-একটা কটু কথা বললেও শান্ত থাকব। যেমন ফর্দ নিয়ে চুপ করে বাসা থেকে বেরিয়ে যাব, তেমনই। মোট কথা, আমি হব শান্তির দূত!
বাজারে ঢুকেই প্রথম দোকানে গিয়ে বলব, ‘ভাই, সবকিছু একটু কম কম দেবেন।’
দোকানি এমনভাবে হয়তো তাকাবেন, যেন আমি বাজারের সব মাল ফ্রি নিতে এসেছি। বলব, ‘এক কেজি না, কিছু আধা কেজি, কিছু তারও কম করে দেন। পেঁয়াজ ১০০ গ্রাম। টমেটো চারটি। কাঁচা মরিচ ১০টি।’ দোকানি হেসে হয়তো তখন বলবেন, ‘ভাই, আপনি বাজার করতে এসেছেন, নাকি নমুনা সংগ্রহ করতে?’ আমি কোনো ঝগড়া না করে হাসব। মনকে শান্ত রাখব!
মাছের দোকানে গিয়ে বলব, ‘ভাই, মাছও কম দেন।’ তিনি কি জানতে চাইবেন? ‘কত কম?’ বলব, ‘এমন কম, যাতে মাছ রান্না করলে শুধু গন্ধে পরিবারের সবাই খেতে পারে!’
চালের দোকানেও যেতে হবে। বললাম, ‘ভাই, পোলাওয়ের চালও একটু কম দেন।’ দোকানি হয়তো কৌতূহলী হয়ে জানতে চাইবেন, ‘কতটুকু?’ বলব, ‘এতটুকু দেন, যাতে পোলাও রান্না হলে সবাই যেন একবার নিতে পারে, কিন্তু দুবার চাইলে প্লেটটা যেন লজ্জায় না পড়ে!’ কারণ, সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে পোলাওয়ের চালের।
এরপর সবজি— পটোল চারটি, গাজর দুটি, মিষ্টিকুমড়া এক ফালির অর্ধেক। ধনেপাতাও সামান্য চাইব। দুটি ডিমও যেন থাকে ভাই, কারণ, বাচ্চাদের কোরমা পছন্দ! এতে দোকানি কি রেগে যাবেন? হয়তো অবাক হয়ে আগের দোকানির মতো বলবেন, ‘ভাই, আপনি বাজার করছেন, নাকি নমুনা সংগ্রহ করছেন?’
আমি শান্ত থাকব, আজ রাগব না। আমার যেসব বাজার করতে হবে সীমিত বাজেট দিয়ে! কারণ, ছেলেমেয়ের পছন্দের কেনা এখনো বাকি!
এবার ফল কিনতে যাব। দোকানিকে বলব, ‘ভাই— আপেল, কমলা আর পেয়ারা ১০০ গ্রাম করে দিন। ভালোটা দিয়েন। দোকানি আমার দিকে হয়তো এমনভাবে তাকাবেন, যেন আমি ফল নয়, দোকানের ভাগ চাইতে এসেছি! তিনি কি রেগে গিয়ে বলবেন, ‘ভাই, ১০০ গ্রাম করে ফল কিনলে তো বাচ্চারা ফলের গন্ধই পাবে, খেতে পারবে না!’ আমি তখন হেসে হেসে বলব, ‘বাজেটও তো বাচ্চার মতোই ছোট!’ আমি শান্ত থাকব, একটুও রাগ করব না।
মাছের বাজারে গিয়ে ইলিশের দিকে না তাকিয়ে দোকানিকে সালাম দিয়ে বলব, ‘ভাই, আজ আপনাকে শুধু দেখেই চলে যাচ্ছি, আমাদের সম্পর্কটা দূর থেকেই ভালো থাকুক!’
এখন বাসায় ফিরব। আচ্ছা, তখন কি বউয়ের ফোন আসবে? ‘সব কিনেছ তো?’ আমি গম্ভীর মুখে বলব, ‘হ্যাঁ, সব কিনেছি, একদম। আর সবচেয়ে বড় কথা— কারও সঙ্গে ঝগড়াও করিনি! কিন্তু ব্যাগ এত হালকা কেন? ফোন কেটে আমি চুপ থাকব। কারণ, সবচেয়ে বড় ঝগড়াটা বোধহয় বাসায় গেলেই হবে!’







