মনে হয়

খাদ্য-খাবার, জামা-কাপড় বা প্রসাধনী, যেকোনো কিছু কেনার আগেই যে জিনিসটি নজর টানে, সেটি পণ্যের প্যাকেজিং। কোনটা দেখতে সুন্দর, ফুটফুটে রঙ, সে কথা বিবেচনা করে ক্রয় করা হয় অনেক কিছুই। বর্তমানে প্যাকেজিং শুধু একপ্রকারের মোড়ক মনে হলেও ভবিষ্যতে এটি হতে পারে সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০৩০ সালে কাগজের প্যাকেজিং শুধু পণ্যকে ঢেকে রাখবে না, নিজেই হয়ে উঠবে মানবজাতির একটি স্মার্ট ও সক্রিয় সঙ্গী। এটি কোনো কল্পবিজ্ঞান নয় বরং একটি বাস্তবসম্মত ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা। চার বছর পর প্যাকেজিং কেমন হতে পারে, সে বিষয়ে ২০১৯ সালে পূর্বাভাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বহুজাতিক কৌশল ও ব্যবস্থাপনা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ম্যাককিনসি অ্যান্ড কোম্পানি।
ম্যাককিনসির বিশেষজ্ঞ ডেভিড ফেবার, ড্যানিয়েল নর্ডিগার্ডেন এবং নিক সান্থানামের আশা, ভবিষ্যতের প্যাকেজিং হবে স্মার্ট, ব্যক্তিগত এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য। তাদের মতে ২০৩০ সালের খাবারের প্যাকেজিং হবে একেবারেই ভিন্ন ধরনের। সেগুলোয় যুক্ত থাকবে স্মার্ট সেন্সর, যেটি প্যাকেট না খুলেও সংকেত দেবে খাবারের সতেজতা সম্পর্কে। প্যাকেটের গায়ে থাকা ডিজিটাল কোড স্ক্যান করলেই পাওয়া যেতে পারে পণ্যের বিস্তারিত তথ্য, ব্যবহারের নির্দেশনা কিংবা সংরক্ষণের উপায়। আবার অন্যদিকে, ভবিষ্যতে প্রচলিত প্লাস্টিকের বিকল্প হয়ে উঠতে পারে উদ্ভিদ ও শৈবাল থেকে তৈরি নতুন উপকরণ। এতে করে যেকোনো পণ্যের প্যাকেট ফেলে দেওয়ার পরেও তা হতে পারে পরিবেশের জন্য লাভবান। তবে তাদের দেওয়া সবচেয়ে মজার পূর্বাভাস হলো, ভবিষ্যতের বক্স প্যাকেজিং মানুষ চাইলেই স্যুপের মধ্যে দিয়ে খেয়ে ফেলতে পারে যখন-তখন। কেননা, এসব প্যাকেট এমন সব উপাদান দিয়ে তৈরি হবে, যা খাদ্যে মিশে জোগান দেবে প্রোটিন ও ভিটামিনের। তবে এই পরিবর্তন রাতারাতি ঘটার সম্ভাবনা কম। নতুন উপকরণের দাম, প্রযুক্তির কার্যকারিতা এবং বর্জ্য সংগ্রহের দুর্বল ব্যবস্থা বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। সব প্যাকেটও যে স্মার্ট হবে বা পরিবেশের ক্ষতি পুরোপুরি বন্ধ করবে, তা নিশ্চিত নয়।



