বোধ হয়

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
রাশিয়া। বিশ্বের দ্বিতীয় পরাশক্তির দেশ। পারমাণবিক শক্তির কারখানা। অথবা ইউরোপ-এশিয়ার পেটে বিশাল এক আন্তঃমহাদেশীয় দেশ। বরফের মরুভূমি সাইবেরিয়ার পিতৃভূমি। সোভিয়েত যুগের মহাপরাক্রমশালী দেশটিই নতুন ইতিহাস গড়বে আবার। পরিবর্তনশীল জলবায়ুকে কাজে লাগিয়ে খাদ্য উৎপাদনে নিজেকে ‘সুপার পাওয়ার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবে বিশ্বে। ২০৩০ সাল থেকেই শুরু হবে সেই উত্থান।
ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক উষ্ণতায় যখন মরুভূমির পথে ছুটবে পৃথিবী; জমে থাকা বরফ গলতে গলতে ডুবতে বসবে একের পর এক উপকূলীয় দেশ— তখন গোটা পৃথিবীর খাদ্যভাণ্ডার, বিশুদ্ধ পানির ভরসা হয়ে উঠবে রাশিয়া। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে সেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছে লন্ডনভিত্তিক প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট ফিউচার টাইমলাইন।
প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়, ২০৩০ দশকে দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোয় অনিয়মিত হয়ে আসবে বৃষ্টিপাত। অঞ্চলে অঞ্চলে হবে খরা। এ অবস্থায় রুক্ষ আবহাওয়া এবং পানির অভাবে সেখানে ফসল উৎপাদনে দেখা দেবে নানা সমস্যা। দক্ষিণ আমেরিকার শীতল ভূখণ্ডগুলোর বরফ গলে বেড়ে যাবে পানির স্তর। অনেক কৃষি ফার্ম ডুবে যাওয়ায় সেখানেও দেখা দেবে খাদ্যসংকট। হঠাৎ তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় ঠান্ডা দেশগুলোয় সবাই ব্যস্ত থাকবে নিজেদের প্রাণ রক্ষায়। বৈরী সে জলবায়ু থেকে নিজেদের রক্ষার পাশাপাশি এসময় খাদ্য উৎপাদনে ঝুঁকবে রাশিয়া। বরফ গলে কৃষিভূমি বেড়ে যাওয়া জমি ব্যবহারের কার্যকর উপায় বের করবে দেশটি। নতুন জমিতে শুরু করবে শাক-সবজি চাষ। খাদ্য উৎপাদনে সবচেয়ে শক্তিশালী হতে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংও কাজে লাগাবে রাশিয়া। বিভিন্ন জেনেটিক্যালি মডিফাইড শস্য এবং উষ্ণতার পরিপ্রেক্ষিতে ‘ভার্টিক্যাল ফার্ম’ (বহুতল ভবন বা বদ্ধ পরিবেশে খাড়াভাবে সাজানো তাকে বা স্তরে ফসল ফলানোর একটি অত্যাধুনিক পদ্ধতি) ব্যবহার করে দেশের পাশাপাশি গোটা বিশ্বের খাদ্য উৎপাদন করবে রাশিয়া। বিশ্বকে শুধু খাদ্য নয়, তার সঙ্গে বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ করবে ইউরেশিয়ার এ দেশ। ইউরোপ এবং মধ্য এশিয়ার অনেক দেশে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট দেখা দিলে তা পূরণে কাজ করবে। দুনিয়ার সব দেশের খাবার-পানির দায়িত্বপ্রাপ্ত দেশটি ‘খাদ্য খাতের সুপার পাওয়ার’ হিসেবেই আত্মপ্রকাশ করবে তখন।




