বোধ হয়

সৃষ্টির সেরা জীব মানবজাতি। এ মানুষকে সঠিক অর্থে মানুষ করে রাখে কোন জিনিসটি? বুদ্ধিমত্তা? প্রযুক্তির উন্নতিতে এরই মধ্যে বাজারে এসেছে অনেক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল। স্মৃতি? মেশিনের কাছে সেটি কোনো সমস্যাই নয় ধরে রাখা। দ্রুত হিসাব? সে লড়াই অনেক আগেই শেষ হয়েছে নানান অ্যাপ ব্যবহারে। তাহলে আর বাকি রইল অনুভূতি। আবেগ, বোধশক্তি, চেতনা— এগুলোই একজন ব্যক্তিকে আলাদা করে মেশিন, রোবট বা এআই থেকে। তবে এই পার্থক্যটিও হয়তো আর চিরস্থায়ী নয়। কানাডার ভবিষ্যৎভিত্তিক ওয়েবসাইট কুয়ান্টামরান ফোর্সাইটসের ২০২৩ সালে দেওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৭৫ সালে প্রতিটি রোবটের থাকতে পারে স্নায়ুতন্ত্র, আবেগ ও নিজস্ব বোধশক্তি!
এই ভবিষ্যদ্বাণীর পেছনে রয়েছে এক বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার। বিজ্ঞানীরা এমন কৃত্রিম স্নায়ুতন্ত্র ও ইলেকট্রনিক ত্বক তৈরি করছেন, যেটি শনাক্ত করতে পারে স্পর্শ, চাপ, তাপমাত্রা ও আঘাত। প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, যন্ত্রের শরীরও তত বেশি শিখছে মানুষের দেহের মতো সংকেত গ্রহণ করতে। কৃত্রিম স্নায়ুতন্ত্র নিয়ে একটি গবেষণা শুরু হয় ২০১৮ সালে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল ন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এমন একটি স্নায়ুতন্ত্র তৈরি করতে সক্ষম হন, যেটি শনাক্ত করতে পারে ব্রেইল বর্ণমালা। কৃত্রিম অঙ্গ (প্রস্থেটিক ডিভাইস) ও সফট রোবোটিকসের জন্য চামড়ার মতো আবরণের ভেতরে স্থাপনযোগ্য একটি সংবেদনশীল স্নায়ু-সার্কিটের সহায়তায় সম্ভব হয় এই সাফল্য অর্জন। সাধারণত একজন মানুষ ভুলে গরম পাত্রে হাত দিলে হাত সরিয়ে নেয় শুধু তাপমাত্রা বোঝার কারণে নয়; বরং এ কারণে যে তার শরীর জানে, ব্যথা কী। তবে এই একই ঘটনায় একটি রোবট শুধু সংকেত পায়— তাপমাত্রা বিপজ্জনক। রোবটের শরীরে স্নায়ুতন্ত্র যুক্তের বিষয়টির গবেষণা আরও উন্নত পর্যায়ে পৌঁছালে ২০৭৫ সালে রোবট ও বিভিন্ন যন্ত্র মানুষকে বুদ্ধিমত্তার পাশাপাশি টক্কর দিতে পারে বোঝাপড়া ও আবেগ-সংক্রান্ত বিষয়েও। কেননা মানুষের মতো ত্বকবিশিষ্ট এমন সব হিউম্যানয়েড রোবটও মানুষের মতো দ্রুত বিভিন্ন উদ্দীপনায় সাড়া দিতে হতে পারে সক্ষম।



