এবং

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বছরের পর বছর পড়াশোনা, গবেষণা এবং অভিজ্ঞতাই মানুষকে বিশেষজ্ঞ করে তোলে। কিন্তু এখন সময় বদলেছে। একটি স্মার্টফোন, একটি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট এবং ‘সীমাহীন আত্মবিশ্বাস’ থাকলেই যেন যেকোনো বিষয়ে এখন ‘বিশেষজ্ঞ’ হয়ে ওঠা যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞান, অর্থনীতি, রাজনীতি, জলবায়ু, খেলাধুলা এবং মহাকাশ— কোনো বিষয়ই আর নাগালের বাইরে থাকে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ঘটনা ঘটতে না ঘটতেই শুরু হয়ে যায় বিশ্লেষণের বন্যা। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের আগেই ভিডিও তৈরি হয় এবং মন্তব্যের ঝড় ওঠে।
যে ব্যক্তি সকালে ক্রিকেট দলের কৌশল বিশ্লেষণ করেন, বিকালে তিনিই আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গবেষক এবং রাতে বনে যান চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরামর্শদাতা। মনে হয়, পৃথিবীর সব বিশ্ববিদ্যালয় মিলে যত বিশেষজ্ঞ তৈরি করতে পারেনি, সোশ্যাল মিডিয়া তার চেয়ে অনেক বেশি তৈরি করে ফেলেছে।
এখন আর তথ্যের গভীরতা নয়, বরং আত্মবিশ্বাসী উপস্থাপনাই যেন সবচেয়ে বড় যোগ্যতা। যুক্তি দুর্বল হলেও কণ্ঠস্বর দৃঢ় হতে হবে এবং মুখভঙ্গি হতে হবে এমন, যেন শেষ সত্যটিও তিনিই আবিষ্কার করেছেন। দর্শকও লাইক, শেয়ার এবং মন্তব্যের মাধ্যমে সেই আত্মবিশ্বাসকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেন।
মজার বিষয় হলো, প্রকৃত বিশেষজ্ঞরা যখন গবেষণার তথ্য এবং প্রমাণ নিয়ে কথা বলেছেন, তখন অনেকেই সেটিকে দীর্ঘ এবং একঘেয়ে বলে এড়িয়ে যান। অথচ যাচাইহীন বক্তব্য, চটকদার শিরোনাম এবং নাটকীয় উপস্থাপনা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। যেন তথ্য নয়, বিনোদনই এখন বিশ্বাসযোগ্যতার নতুন মানদণ্ড।
এভাবে ধীরে ধীরে মতামত এবং তথ্যের পার্থক্য মুছে যাচ্ছে। মানুষ অনেক সময় যাচাই না করেই শোনা কথাকে সত্য ধরে নিচ্ছে এবং সে কথাই আবার অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে বিভ্রান্তি বাড়ছে এবং প্রকৃত তথ্য আড়ালে চলে যাচ্ছে।
হয়তো শিগগিই নতুন একটি ডিগ্রি চালু হবে— ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষজ্ঞ (সম্মান)’। ভর্তি পরীক্ষায় লিখিত বা মৌখিক কিছুই লাগবে না। শুধু প্রমাণ করতে হবে, যেকোনো বিষয়ে পূর্ণ তথ্য না জেনেও অন্তত ১০ মিনিট নিরবচ্ছিন্নভাবে কথা বলতে পারেন এবং শেষে বলতে পারেন, ‘বাকিটা আপনারা কমেন্টে জানাবেন!’
লেখক: উপ-বার্তা সম্পাদক, আগামীর সময়




