বোধ হয়

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে চোখে পড়ল পাশে স্মার্টফোনটি নেই। ডেস্কের ওপরে কম্পিউটার নেই, এমনকি টিভিটাও উধাও! ঘরের একটি ইলেকট্রনিক যন্ত্রও পাওয়া যাচ্ছে না খুঁজে। প্রথমে মনে হতে পারে, বাড়িতে চোর ঢুকেছে। কিন্তু চোর তো অ্যালার্ম বাজিয়ে যায় না, কফি বানিয়ে দেয় না, কিংবা অফিসের মিটিংও মনে করিয়ে দেয় না! তাহলে এসব করছে কে? উত্তরটা অদ্ভুত। এসবই করছে প্রযুক্তি। প্রতিটি যন্ত্র আশপাশেই আছে, কিন্তু সেগুলোকে চোখে দেখা যায় না। প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎবিদ টম চিজরাইটের ভাবনা এমন এক সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করে। তার আলোচনার মূল বিষয়, ভবিষ্যতের প্রযুক্তি বোধ হয় হবে অদৃশ্য। যন্ত্র থাকবে, কাজও করবে, তবে সবসময় চোখের সামনে থাকবে না। চিজরাইট তার অদৃশ্য প্রযুক্তির পূর্বাভাস নিয়ে নিজের ওয়েবসাইটে বিস্তারিত জানিয়েছেন চলতি বছরের জুলাই মাসে।
‘ইজ দ্য ফিউচার ইনভিজিবল’ শীর্ষক প্রতিবেদনে টম লিখেছেন, ভবিষ্যতে প্রযুক্তি হয়তো এমনভাবে দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে মিশে যাবে যে, তার উপস্থিতি আলাদা করে বোঝাই যাবে না। সাধারণত আগামীর বিশ্বের প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনায় কেন্দ্রে থাকে বিশাল স্ক্রিনের টেলিভিশন, স্মার্টফোন। স্মার্টওয়াচ কিংবা স্মার্টগ্লাস। কিন্তু টমের দেখা ভবিষ্যতে এগুলোর কিছুই নেই। তবে আছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্মার্ট সেন্সর, যেগুলোর সাহায্যে প্রযুক্তি নীরবে কাজ করতে পারবে। মানুষের প্রয়োজন বুঝে তথ্য দিতে পারবে, কাজ সহজ করতে পারবে, এমনকি কিছু সিদ্ধান্ত নিতেও সাহায্য করতে পারবে। তবে এই অদৃশ্য প্রযুক্তির সুবিধার পাশাপাশি থাকবে ঝুঁকিও। ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা, মানুষের স্বাধীনতা এবং প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা হয়ে উঠতে পারে বড় উদ্বেগ। সম্ভবত ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তিগত পরিবর্তনে প্রযুক্তি যত উন্নত হবে, তাকে ততই কম দৃশ্যমান বলে মনে হবে।



