প্রাণীটিকে প্রকৃতির প্রকৌশলী বলা হয় কেন?

বিভার
আমরা ইঞ্জিনিয়ার বা প্রকৌশলী বলতে সেতু, ভবন বা যন্ত্রপাতি নকশা করা মানুষের কথাই চিন্তা করি। কিন্তু এমন এক প্রাণী আছে, যাকে প্রকৃতির সবচেয়ে শক্তিশালী প্রকৌশলী বলা হয়। যার প্রভাব পুরো বাস্তুতন্ত্রকেই নতুন আকার দিতে সক্ষম।
সেই প্রাণীটির নাম হলো বিভার। স্তন্যপায়ী প্রাণীটিকে আবার জলচর ইঁদুর বা উদবিড়ালও বলা হয়। এরা ক্যাপিবারার পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জীবিত ইঁদুরজাতীয় প্রাণী। এটি কানাডার জাতীয় প্রাণী।
বিভাররা কাঠ, কাদা ও পাথর ব্যবহার করে নদী বা খালের ওপর বাঁধ নির্মাণের জন্য বিখ্যাত। প্রথম দেখায় এটি শুধু আশ্রয় তৈরির একটি কৌশল মনে হলেও, এর প্রভাব অনেক বিস্তৃত। এই বাঁধ পানির প্রবাহ ধীর করে দেয়। যার ফলে পুকুর ও জলাভূমির সৃষ্টি হয়।
এই পরিবর্তনগুলো শুধু বিভারের জন্যই উপকারী নয়, এর মাধ্যমে শুধু বিভার নয়, এগুলো পুরো পরিবেশই বদলে যায়। এ কারণেই বিজ্ঞানীরা বিভারকে ‘কিস্টোন প্রজাতি’ বা মূল প্রজাতি হিসেবে বিবেচনা করেন। অর্থাৎ তাদের উপস্থিতি আশপাশের বাস্তুতন্ত্রকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
বিভারদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হলো পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা। তাদের নির্মিত বাঁধ দ্রুতগতির পানি ধীর করে বন্যার তীব্রতা কমাতে সাহায্য করে। এতে পানি একসঙ্গে নিচের দিকে নেমে না গিয়ে ধীরে ধীরে সঞ্চিত ও নিঃসৃত হয়। আবার খরার সময় এই জলাধারগুলো পানি ধরে রাখে। ফলে আশপাশের জমিতে আর্দ্রতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। তাই খরাপ্রবণ এলাকায় বিভার-নির্মিত জলাভূমি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায়ও বিভারদের ভূমিকা বিস্ময়কর। তাদের তৈরি জলাভূমিতে উদ্ভিদ ও মাটির মধ্যে বিপুল পরিমাণ কার্বন জমা থাকে। এই কার্বন আটকে রাখার মাধ্যমে গ্রিনহাউস গ্যাস কমাতে সহায়তা করে। পাশাপাশি বিভারদের তৈরি জলাধারে জমে থাকা পানি আশপাশের উদ্ভিদকে সুস্থ রাখে। এই পানি আবার কিছু অঞ্চলে দাবানলের ঝুঁকি কমাতেও ভূমিকা রাখে।
বাস্তুতন্ত্রের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও বিভারদের সঙ্গে মানুষের মাঝে মাঝে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। তাদের বাঁধের কারণে রাস্তা, কৃষিজমি বা বসতবাড়ি প্লাবিত হতে পারে, যা স্থানীয়দের জন্য সমস্যা তৈরি করে। তবুও বর্তমানে অনেক পরিবেশবিদ তাদের গুরুত্ব স্বীকার করছেন এবং সহাবস্থানের উপায় খুঁজছেন। এমনকি কিছু অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য বিভারদের পুনঃপ্রবর্তনও করা হচ্ছে।
সূত্র : নিউজ ১৮



