সুতরাং

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ঢাকার মানুষ বড় ভাগ্যবান। পৃথিবীর অনেক শহরে কল খুললে পানি আসে। তবে ঢাকার কল খুললে আসে গবেষণার বিষয়। গবেষণা বলছে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নাকি প্রতি বছর এক থেকে তিন মিটার নিচে নামছে। পানি যত নিচে নামছে, আমাদের নলকূপ তত গভীরে যাচ্ছে। একসময় হয়তো পানি তুলতে নলকূপের সঙ্গে লিফটও লাগবে। তখন ওয়াসার বিজ্ঞপ্তি আসবে, ‘পাতাল থেকে পানি উত্তোলনে নাগরিকদের সহযোগিতা কাম্য।’
ঢাকার চারপাশে নদী আছে। বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যা। শুধু নদীর পানি নেই, আছে নদীর নামে পরিচিত একধরনের তরল পদার্থ। শিল্পবর্জ্য, নর্দমা, রাসায়নিক, প্লাস্টিক— সব মিলিয়ে নদীর পানি এখন এমন সমৃদ্ধ যে, মাছও সেখানে সাঁতার কাটার আগে পরিচয়পত্র চাইতে পারে।
অবশ্য নদীর পানি শোধন করা হবে। শোধনাগার হবে। প্রযুক্তি আসবে। গবেষণা হবে। পানি শোধন করতে করতে একদিন হয়তো নদীটাই শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু গবেষণা চলবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পানির অপচয় বন্ধ করতে হবে। খুব ভালো কথা। তবে ঢাকাবাসীর প্রশ্ন, ‘পানি তো পাই না, অপচয় করব কীভাবে?’
এখন থেকে হয়তো গোসলেরও কোটা নির্ধারণ হবে। সকালে এক মিনিট পানি, দুপুরে আধা মিনিট, রাতে জরুরি প্রয়োজনে এক মিনিট। বেশি গোসল করলে ‘দেশদ্রোহী’ না হলেও ‘পানি-অপচয়কারী’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।
সিঙ্গাপুর পানি সংরক্ষণ, পুনর্ব্যবহার ও উৎস বৈচিত্র্যের মাধ্যমে সংকট সামলেছে। ঢাকা চাইলে সেখান থেকেও শিখতে পারে। তবে আমাদেরও একটি বড় সম্পদ আছে— ‘পানির সংকট নিয়ে কথা বলার অসীম ক্ষমতা।’
পানি কমছে, নদী মরছে, নলকূপ গভীরে যাচ্ছে। অথচ গবেষণা, সভা আর পরিকল্পনার পানি এখনো শুকায়নি। সুতরাং ঢাকার ভবিষ্যতের স্লোগান হতে পারে— ‘কল শুকাক, নদী শুকাক, গবেষণা চলুক!’






