হতেও পারে

ঘুমিয়ে আর সময় নষ্ট হবে না। আসছে পৃথিবীর নতুন প্রযুক্তিতে ঘরেও কাজ করবে মস্তিষ্কের ‘ড্রিম ইঞ্জিনিয়ারিং’। ঘুমিয়ে নাক ডেকে স্বপ্ন দেখার মধ্যেই সেখানে চলবে নানা আপডেট। কষ্ট বা ট্রমা পেয়ে থাকলে তা স্বপ্ন দেখতে দেখতে ঘুমের মধ্যেই সহনীয় বানিয়ে দেবে নতুন এ প্রযুক্তি। ২০৫০ সালে এমন ‘ড্রিম ইঞ্জিনিয়ারিং’ হবে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন কানাডার ভবিষ্যৎবিদ ইয়ান খান। নিজের ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে হালকা-পাতলা লিখেছেন তিনি।
মানুষ ঘুমিয়ে কমবেশি অনেক স্বপ্নই দেখে। উঠে অর্ধেক মনে থাকে অর্ধেক থাকে না। আবার স্বপ্নে এক দুনিয়া থেকে আরেক দুনিয়ায় ঝাঁপ মেরে কীভাবে পৌঁছান এসব নিয়েও আসে প্রশ্ন। তবে ২৪ বছর পর, কী, কেন, কী জন্য সে স্বপ্ন, তা জানতে নিজেই নিজের স্বপ্ন করতে পারা যাবে বিশ্লেষণ। কেননা, প্রযুক্তি এতটাই অগ্রসর করবে যে, তা ব্যবহার করে নিজের দেখা যতসব আজগুবি স্বপ্ন রেকর্ড করে রাখা যাবে। বর্তমান বিজ্ঞানে মানুষ কী কারণে স্বপ্ন দেখে তা নিয়ে এখনো রয়েছে ধোঁয়াশা। তবে আগামীতে আর তা থাকবে না। নন-ইনভেসিভ ব্রেন-কম্পিউটার ইন্টারফেসের সাহায্যে স্বপ্ন তখন আর পুরোপুরি এলোমেলো কোনো অভিজ্ঞতা থাকবে না। বরং স্মৃতি শক্তিশালী করা, নতুন ধারণা তৈরি করা বা মানসিক চাপ প্রক্রিয়াজাত করার জন্য ব্যবহার করা যাবে সব স্বপ্ন। ইয়ান খানের বিশ্বাস, মানুষ যখন বিশ্রামের জন্য ঘুমাবে তখনই একটু এক্সট্রা কাজ করবে তার মস্তিষ্ক। কর্মক্ষেত্রের জন্য বা নিজের জন্য স্কিল শিখতে সময় বের করতে হবে না। ঘুমিয়ে গেলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ব্রেন নিজে নিজে সব স্কিল বা দরকারি কাজ শিখে তা জমা রাখবে। সজাগ হলে মানুষ তা লাগাতে পারবে কাজে।
মানসিক আঘাত বা কঠিন অভিজ্ঞতার স্মৃতিগুলোকে নিরাপদ পরিবেশে পুনর্গঠন করতে ব্যবহৃত হবে স্বপ্ন।
শুনতে খানিকটা ভবিষ্যতের উপন্যাসের মতো লাগলেও ধারণাটা পুরোপুরি বাতাস থেকে আসেনি। ঘুম, স্মৃতি, আবেগ এবং সৃজনশীলতার মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা চলছে বহু বছর ধরেই। একই সঙ্গে চেতনা নিয়ে প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানও আগোচ্ছে দ্রুত। এ দুই ধারার মিলন থেকেই ড্রিম ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের জন্ম হওয়া খুব অস্বাভাবিক কিছু না।


