এবং

‘বউবাজার বনাম জামাইবাজার’। এর একটি বৈষম্যমূলক তদন্ত হওয়া দরকার বলে মনে করি। বাংলাদেশে বউবাজার আছে, জামাইবাজার নেই। এটি কি কোনো ষড়যন্ত্র? লেখাটা কি ‘পুরুষবাদী’ হয়ে গেল?
আমি গুগলে সার্চ দিলাম। গুগল বলল, ঢাকাসহ সারা দেশে অন্তত ৭৮টি বউবাজার আছে, তথ্য সঠিক কি না জানা গেল না। উত্তরা বউবাজার, মিরপুর বউবাজার, চট্টগ্রাম বউবাজার, রাজশাহী বউবাজার। কোথাও কোথাও আবার নতুন বউবাজার, পুরান বউবাজার। মানে বউরা পুরান হয়ে গেলেও বাজার নতুনই থাকে!
কিন্তু জামাইবাজার? মনে হয় একটিও নেই। আজ পর্যন্ত শুনিনি যে, একটি জামাইবাজার বাংলাদেশের কোথাও আছে। প্রশ্ন হলো— বউবাজারে কি শুধু বউরাই যান?
আমি কিছু কিছু বউবাজারে গিয়ে জরিপ করেছি। রাজধানীর নয়াটোলা আমবাগান বউবাজার গিয়ে একদিন দেখলাম, ১০০ জন মানুষের মধ্যে ৭০ জনই জামাই। হাতে বাজারের ব্যাগ, মুখে অসহায় ভাব। বউ ফোনে নির্দেশ দিচ্ছেন— ‘আলু নিও না, পটোল নিও। পটোল দেখে নিও, টিপে টিপে নিও’— অর্থাৎ বউবাজার শুধু নামে বউবাজার, কিন্তু কামে জামাইবাজার। পুরোটাই ধোঁকা!
তাহলে নামটা বউবাজার কেন? ইতিহাস ঘেঁটে জানলাম, আসলে বউবাজার নামটি একটা সুচতুর মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি। বউরা যদি শোনে ‘বউবাজার’, তাদের মনে হয় এটি তাদের নিজস্ব সাম্রাজ্য, তাদের মন্ত্রণালয়। তারা খুশি মনে জামাইকে পাঠান। জামাইরা ভাবেন, বউয়ের বাজার, গিয়ে একটু ভাব নেওয়া যাক। গিয়ে দেখেন বউয়ের চেয়ে জামাইয়ের সংখ্যাই বেশি।
বউবাজারে এই বৈষম্য নিয়েই আমাদের জাতীয় ঐক্য টিকে আছে। জামাইরা নীরবে বাজার করে যান, বউরা গর্ব করে বলেন, ‘আমার বাজারে গিয়েছিল’। কোনো মিছিল নেই, কোনো সংঘাত নেই, কোনো টক শো নেই। জাতিসংঘের কোনো নিন্দা নেই। কী সুন্দর সহাবস্থান!
পৃথিবীর আর কোনো দেশে এমন নীরব আত্মত্যাগ দেখেছেন? জামাইরা প্রতিদিন বউবাজারে গিয়ে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন, তবু একটা মানববন্ধন পর্যন্ত করছেন না।
আমি প্রস্তাব করছি, অন্তত একটা জামাইবাজার করা হোক। যেখানে শুধু জামাইরা যাবেন। সেখানে পাঞ্জাবি, লুঙ্গি, গামছা আর শ্বশুরবাড়ির জন্য বিশাল সাইজের রসমালাই বিক্রি হবে। দরদাম হবে না, সব ফিক্সড প্রাইস। ততদিন পর্যন্ত বউবাজারের নাম বদলে ‘জামাইয়ের কাঁধে বউয়ের বাজার’ রাখা হোক। নামে সত্য থাকবে, জামাইদের প্রতি ন্যায়বিচারও হবে! আর যদি না রাখা হয়, তবে দুনিয়ার সব জামাইয়ের পক্ষ নিয়ে বলছি— জামাইরা নামের কাঙাল নন।



