এবং

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
হাসপাতালে ঢুকলেই মানুষ গুটিয়ে যায়। মানুষ থাকে, মানবিকতা থাকে না। হঠাৎ আব্বার হার্ট অ্যাটাক। ডাক্তার বললেন, ‘সিরিয়াস... সিরিয়াস।’ আমরা বুঝলাম— পকেটও সিরিয়াস।
প্রাইভেট হাসপাতালে ঢুকি। ভেতরটা চকচকে। হাসি নেই, খরচ আছে। সিসিইউর ভাড়া শুনে মাথা ঘোরে। হার্ট অ্যাটাক আব্বার। দম আটকে যায় আমাদের সবার।
আমরা চুপ করে থাকি। চুপ থাকলে কিছু কমে না। শুধু সম্মানটা নামে। আর ক্যালকুলেটরের উত্তাপ বাড়ে।
সরকারি হাসপাতালে যাই। এখানে ভিড়। মাথা ঘোরানো গন্ধ। আর নীরব আর্তনাদ। তবু কেউ চেঁচায় না। সবাই যেন নরকেই অভ্যস্ত। দৌড়ঝাঁপ করে একটি পেইং বেড পাওয়া যায়। বেডটা আছে, ফ্যানটা নেই। চারপাশে অগণিত নষ্ট ফ্যান। সবাই জানে— ঠিক হবে না। কারণ, এটাই এখানকার নিয়ম।
গরমে রোগী হাঁসফাঁস করে। কী করা যায় ভেবে আমি ফিসফাস করি। বাইরে থেকে ছোট ফ্যান কিনে আনি। আব্বার জন্য বাতাস কিনি।
টয়লেটে ঢুকি। ট্যাপ থেকে পানি পড়ে, থামে না। চারদিকে থইথই। এটা যেন টয়লেট নয়, বয়ে চলা নদী। ছিটকিনি নেই। হায় হায়, কোথাও বুঝি নেই! তবু গর্বে বুক ভরে যায়। দরজা তো আছে। দরজা ছাড়াই টয়লেটে যেতে হয়— এমন দৃশ্যও যে কল্পনায় আসে।
বিড়াল আছে। তারা ডাক্তারদের চেয়েও বেশি। দায়িত্বও বেশি। অসীম সাহসিকতায় এই বেড থেকে ওই বেডে যায়। রোগী দেখে। ভিজিট হিসেবে রোগীদের খাবার খায়।
রাতে স্বজনরা ফ্লোরে শোয়। কেউ কাঁদে। কেউ ঘুমায়। বিড়ালরা হাঁটে। রাতেও যে ওদের নাইট ডিউটি থাকে।
সকালে আমরা চুপিচুপি বেরিয়ে আসি। পালিয়েই আসি। কারণ চিকিৎসা এখানে হয়। মানবিকতা হয় না।
নিন্দা শেষ। আবার কেউ আসবে এখানে। আসতেই হবে। ফ্যান ছাড়া। ছিটকিনি ছাড়া।




