যদি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ডিম এবং ঘোড়ার ডিম। দুটিই দরকারি। ডিমের ব্যবহার নানাবিধ। অবাক হয়ে ভাবছেন ঘোড়ার ডিম কী কাজে লাগে? হ্যাঁ, ঘোড়ার ডিমও কাজে লাগে। মাঝেমধ্যে ঘোড়ার ডিম দিয়ে আমরা উদাহরণ দিই। আবার কখনো কখনো কারও কোনো কথা যুক্তিসংগত মনে না হলে বলি ‘একটা ঘোড়ার ডিম।’
ডিম একটি অত্যন্ত দরকারি জিনিস। সকালে পোচ, দুপুরে কারি, বিকালে অমলেট। ডিম ছাড়া জীবন প্রায় ডিম ছাড়া পরোটার মতোই অর্থহীন। ডিম থেকে বাচ্চা হয়, বাচ্চা থেকে মুরগি হয়, মুরগি থেকে আবার ডিম হয়— এ এক অনন্ত লুপ, যার সমাধান আজও কি বের করতে পেরেছেন?
আর ঘোড়ার ডিম? এটি আরও দরকারি। আপনি বলবেন, ঘোড়া তো ডিম পাড়ে না। তাহলে এটি কী কাজে লাগে? ঠিক ধরেছেন। এজন্যই এটি আরও দরকারি। কারণ যা নেই, তার চাহিদা সবচেয়ে বেশি।
ঘোড়ার ডিমের ব্যবহার ব্যাপক। সবজি বাজারে গিয়ে দাম নিয়ে বাড়াবাড়ি করবেন, অথবা দাম মাত্রাতিরিক্ত কম বলবেন— দোকানি বলবেন, ‘ঘোড়ার ডিম পাবেন এই দামে।’ আপনার বন্ধু বলল, ‘আমি কাল এভারেস্টে উঠেছিলাম।’ আপনি তখন কী বলবেন?, ‘আরে যাহ, ঘোড়ার ডিম উঠেছিলি।’ একটি বাক্যেই তর্ক শেষ। কোনো প্রমাণ লাগে না, আদালত লাগে না।
অথবা অফিসে বস বললেন, ‘এই প্রজেক্টটা কালকের মধ্যে শেষ করতে হবে।’ মনে মনে আপনি বললেন, ‘ঘোড়ার ডিম করব।’ ব্যাস, মনটা হালকা হয়ে গেল। কাজ না করেও শান্তি পাওয়ার একমাত্র উপায় কিন্তু ‘ঘোড়ার ডিম বলা’।
আসলে ডিম পেট ভরায়, আর ঘোড়ার ডিম আপনার মন ভরায়। ডিমে প্রোটিন আছে, ঘোড়ার ডিমে আছে পর্যাপ্ত সান্ত্বনা। তার মানে, অস্তিত্ব না থাকলেও কিন্তু ঘোড়ার ডিমের অস্তিত্ব আছে।
আমাদের ফারুক স্যার একদিন বলেছিলেন, তোমরা বলো তো ‘ঘোড়ার ডিম কী কাজে লাগে?’ সেদিন আমরা সবাই তাজ্জব বনে গিয়েছিলাম। পরে স্যার বললেন, ঘোড়ার ডিম সবচেয়ে বেশি কাজে লাগে উদাহরণ দিতে। যেমন কথায় কথায় বলেন, ‘ঘোড়ার ডিমের মতো পরিশ্রম করেও লাভ নেই,’ তখন আমরা বুঝি পরিশ্রমটা ফাঁকা। মা যখন বলে, ‘সারাদিন ঘোড়ার ডিম করেছিস,’ মানে আমরা তেমন কিছুই করিনি।
আসলে ডিম ছাড়া যেমন সকালের নাশতা জমে না, তেমনি ঘোড়ার ডিম ছাড়া আমাদের কথাবার্তাও জমে না। একটা পেটের জন্য, আরেকটা মুখের জন্য। সুতরাং জীবনে ডিমের যেমন অপরিহার্যতা আছে, তেমনি ঘোড়ার ডিমেরও অপরিহার্যতা কম নয়।



