বোধ হয়

ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্র মাটির ওপর নয়, হবে মেঘের ভেতরে! সেখানে লুকিয়ে থাকবে সংঘাতের নতুন বীজ! বর্তমানে পরিবেশের সম্ভাব্য অবনতির পাশাপাশি বেড়ে চলেছে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা। ভবিষ্যতে বোমা, ক্ষেপণাস্ত্রের পরিবর্তে রাষ্ট্র তাদের শত্রুর বিপক্ষে ব্যবহার করতে পারে আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রচেষ্টাকে। আসছে বছরগুলোর কথা বিবেচনা করে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম জানিয়েছে, ভবিষ্যতে বিশ্ব মুখোমুখি হতে পারে ১০টি সম্ভাব্য সংকটের। আন্তর্জাতিক এই প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তালিকায় এক নম্বরেই রয়েছে ‘ওয়েদার ওয়ার,’ অর্থাৎ আবহাওয়া যুদ্ধ।
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে ‘ক্লাউড সিডিং’-এর বিষয়টি। এটি এমন একটি আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রযুক্তি, যেখানে মেঘে রাসায়নিক উপাদান ছড়িয়ে বৃষ্টিপাত ঘটানো বা থামানো সম্ভব। একটু পুরনো প্রযুক্তি হলেও বর্তমানে এটির প্রয়োগ আগের থেকে অনেক সহজ ও সাশ্রয়ী। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এখানে দৃষ্টিভঙ্গিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ; যেমন, কোনো প্রতিবেশী রাষ্ট্র বড় পরিসরে ক্লাউড সিডিং কার্যক্রমকে ‘বৃষ্টি চুরি’ বা খরা সৃষ্টির কারণ হিসেবে মনে করতে পারে। ক্লাউড সিডিংয়ের কাজে ব্যবহৃত বিমানগুলোকে দেখা হতে পারে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের সরঞ্জাম হিসেবেও। যদিও ক্ষতিকর উদ্দেশ্যে এসব প্রযুক্তির ব্যবহার নিষিদ্ধ, তবুও তা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কোনো প্রতিবেশী দেশের কৃষিব্যবস্থা বা সামরিক পরিকল্পনাকে ব্যাহত করতেও ব্যবহার করা হতে পারে এই প্রযুক্তি। এ ছাড়া কোনো রাষ্ট্র যদি এককভাবে আরও চরম পর্যায়ের ‘জিও-ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা ভূ-প্রকৌশল প্রযুক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তা কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে ভয়াবহ জলবায়ু বিপর্যয়ের।



