তবে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের ‘দ্য স্টোরি অব আ শিপরেকড সেলর’ বইটি হয়তো অনেকেরই পড়া। ১৯৫৫ সাল। কলম্বিয়ার ডেস্ট্রয়ার ‘কালডাস’ থেকে সাগরে ছিটকে পড়েন নাবিক লুইস আলেজান্দ্রো ভেলাস্কো। টানা ১০ দিন খাবার ও পানি ছাড়া সমুদ্রে বেঁচে থাকার সেই সত্য ঘটনা নিয়েই এই শ্বাসরুদ্ধকর নন-ফিকশন।
এবার একজনের ভাষ্য শোনা যাক: ‘হঠাৎ করেই আবহাওয়া ভয়াবহ হয়ে ওঠে। বিশাল ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি ডুবে যায়। আমরা ট্রলারের ভাঙা অংশ ও একটি বয়া ধরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সাগরে ভেসেছিলাম। চারদিকে শুধু অন্ধকার আর উত্তাল ঢেউ। মনে হচ্ছিল আর বাঁচব না। ট্রলারটি উল্টে যাওয়ার পর ভেতরে আটকা পড়া জেলেদের চিৎকার শুনতে পাচ্ছিলাম। কিন্তু উত্তাল ঢেউ ও প্রবল স্রোতের কারণে কাউকে উদ্ধার করার মতো পরিস্থিতি ছিল না। আমরা আটজন ট্রলারের ফ্যান ধরে প্রায় ছয় ঘণ্টা ভেসেছিলাম। জীবন বাঁচাতে একসময় পাঁচজন একটি বয়া ধরে অন্যদিকে ভেসে যাই। পরে একটি মাছ ধরার ট্রলার এসে আমাদের উদ্ধার করে।’
কথাটি এমাদুল সিকদারের। ঘটনাটি গত রবিবার রাত ১০টার দিকে। ঝড়ের কবলে বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়া ট্রলারটির মালিক তিনি। এ ঘটনায় ট্রলারে থাকা ১১ জনের মধ্যে জীবিত ফেরা পাঁচজনের একজন এই এমাদুল। এখনো নিখোঁজ ছয়জন। তাদের ভাগ্যে কী আছে, সে খবর দিতে পারছে না কেউ। তবে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার খরিদা ও তুলারাম গ্রামের বাতাসে এরই মধ্যে ভাসছে স্বজনদের মাতম, আহাজারি।
এ দেশে এমন ট্রলারডুবির ঘটনা নতুন নয়। পত্রিকার পাতায় যার ঠাঁই বড়জোর দুই কলাম। এমাদুল সিকদারের একটি কথা কানে বাজছে, ‘কিছুক্ষণ পর ডুবন্ত ট্রলার থেকে অন্যরা বের হতে পারলেও ফোরকান, সায়েম ও এমাদুল খাঁ আর বের হতে পারেননি। শেষবার দেখেছিলাম হারুন, আল-আমিন ও আক্কাস উল্টে থাকা ট্রলারের ফ্যানের কাছেই ছিলেন।’ আমাদের দেশে কোনো মার্কেজ নেই। তবে থাকলে তিনি নিশ্চয়ই এই রুদ্ধশ্বাস নন-ফিকশন নিয়ে দুই কলম লিখতেন, যার আয়তন দুই কলাম নয়।




