সম্ভবত

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
মিথ্যা বলার সময় ঠোঁট কাঁপে চতুর মিথ্যাবাদীরও। মেঘে ঢাকা সূর্যের মতোই লুকানো সত্যের আভা ফুটে ওঠে তার অঙ্গভঙ্গিতে। এক মুহূর্তের জন্য চোখ নড়াচড়া, ঠোঁটের কোণে সামান্য কাঁপুনি, তোতলামির মতো মাঝপথেই কথা বেধে যাওয়া— কত উপসর্গ তখন! সামনের মিথ্যা শোনা মানুষটি হয়তো খেয়াল করেন না এর অনেক কিছুই। তবে ভবিষ্যতে প্রযুক্তির চোখে এগুলোই হয়ে উঠবে মিথ্যাবাদী ধরার গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দলের দাবি, ২০৭০ সালের মধ্যেই মিথ্য নির্ণয়ে ব্যবহৃত হবে এক বিশেষ যন্ত্র। সেটি কোনো বড় জটিল যন্ত্র নয়; বরং দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ চশমা। যেটিতে থাকবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং নতুন প্রযুক্তি। ২০০২ সালে এমনই একটি চশমা আবিষ্কার করতে সফল হয়েছে গবেষক দলটি। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভবিষ্যতে ‘আমি কিছু করিনি!’ শোনার পর যাচাই হবে শরীর আসলে কী বলছে।
ভিন্ন ধর্মী এই চশমার আবিষ্কার এবং কার্যক্ষমতা নিয়ে ২০০৩ সালেই উদ্ভাবক বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে বিস্তারিত জানানো হয়। মিথ্যা যাচাইয়ে পারদর্শী ওই যন্ত্রটির নাম ‘সাইলেন্ট টকার’ অর্থাৎ নীরব কথক। এটি এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে ব্যবহার করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। এটি হাজার হাজার অতিসূক্ষ্ম অঙ্গভঙ্গি শনাক্ত ও বিশ্লেষণ করতে সক্ষম, যার অনেকই ধরা পড়ে না খালি চোখে। ম্যানচেস্টার সিস্টেমটি মূলত মানুষের মানসিক চাপ, প্রতারণা, ক্লান্তি ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করতে সক্ষম। এটি বিশ্লেষণ করে মানুষের সামগ্রিক যোগাযোগের ৯৩ শতাংশ জুড়ে থাকা অমৌখিক আচরণ। ভ্রু বা চোখের অতিসূক্ষ্ম নড়াচড়া, যা নিরবচ্ছিন্ন, স্বয়ংক্রিয় ও অনিচ্ছাকৃত, তা-ও ধরা পড়ে এই চশমাই। একটি ল্যাপটপ ও ক্যামেরার সাহায্যে পরিচালিত ‘সাইলেন্ট টকার’ ব্যবস্থাটি ‘মাইক্রো-জেসচার’ বা অতিসূক্ষ্ম অঙ্গভঙ্গির মধ্যকার অসামঞ্জস্য ও অসংগতিগুলো শনাক্ত করে। আবিষ্কারের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের করা নানান গবেষণায় সিস্টেমটি ৮০ শতাংশেরও বেশি ক্ষেত্রে নির্ভুল। ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটান বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটিং ও গণিত বিভাগের প্রকল্প পরিচালক ড. জুহাইর বন্দর জানিয়েছেন, ‘আমরা বিশ্ব জুড়ে বিভিন্ন ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেছি এবং নিশ্চিত হয়েছি যে, এটিই সবচেয়ে অত্যাধুনিক।’




