সুতরাং

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
জোর যার মুল্লুক তার। এমন কথা ইতিহাসের খানাখন্দ পেরিয়ে আজও বহাল তবিয়তে। বর্তমান বিশ্বের ইরান এর জলজ্যান্ত উদাহরণ। সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশটিকে তোপের মুখে রেখেছে বিশ্ব মোড়ল যুক্তরাষ্ট্র। শুরুটা সেই ১৯৫৩ সালের আগস্টে। তেলসম্পদ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে। দোসর যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা এমআই-৬কে সঙ্গে নিয়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ উসকে দেয় সিআইএ। গোপন অভ্যুত্থানটির নাম ছিল ‘অপারেশন অ্যাজ্যাক্স’। ১৯ আগস্ট পতন ঘটে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত ইরানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেক সরকারের।
অভ্যুত্থানের প্রথম চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান তিনি। পশ্চিমাদের হাতের লাঠি ইরানের রাজা শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভি। পরে ব্রিটিশ-মার্কিন পরিকল্পনায় ১৪ আগস্ট জেনারেল ফজলুল্লাহ জাহেদিকে ইরানের নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের ডিক্রি জারি করা হয়। এর পাঁচ দিনের মাথায় জেনারেল জাহেদি অনুগত সামরিক বাহিনী, ভাড়াটে গুণ্ডা ও পশ্চিমা গোয়েন্দাদের অর্থায়নে ব্যাপক বিক্ষোভ ও সহিংসতা শুরু হয় তেহরানে। নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মোসাদ্দেকের সরকারি বাসভবন ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করে নেওয়া হয়। আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয় মোসাদ্দেকের বাহিনী। নিজেকে ইরানের বৈধ প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করে রেডিওতে ভাষণ দেন জাহেদি। পৃথিবীর প্রথম পরাশক্তি পারস্য সাম্রাজ্যে প্রথম বহিঃশক্তির সফলতার সূচনাও তখনই। ইরানের ওপর প্রথম অর্থনৈতিক অবরোধও তার দুই বছর আগেই— ১৯৫১ সালে। ইরানের তেলভাণ্ডার ঘিরে। এরপর টানা পাঁচ দশক পর নতুন অজুহাত ঘিরে ধরে ইরানকে। পারমাণবিক অস্ত্র। ২০০০ সালে এসে যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা শাগরেদদের মনে হয়, গোপন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উচ্চাকাঙ্ক্ষায় ভর করেছে ইরান। পায়ে দড়ি দিতে সেবার আরও কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করে ওয়াশিংটন। সেই পথ ধরেই আজকের ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ। হরমুজ প্রণালি বন্ধ। জ্বালানির দামে আগুন। বিশ্ব উত্তাল। অথচ ২০২০ সালে মধ্যপ্রাচ্যেরই আরেক রাষ্ট্র ইসরায়েলের হাতে অন্তত ৯০টি পারমাণবিক বোমা (ওয়ারহেড) থাকার খবর সামনে আনে সুইডেনভিত্তিক সংস্থা স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট। শুধু তাই নয়, আরও অতিরিক্ত ২০০টি পারমাণবিক বোমার প্লুটোনিয়াম বা পারমাণবিক জ্বালানির মজুদ রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় রিপোর্টে।
কোনো কোনো আন্তর্জাতিক সংসস্থার দাবি অনুযায়ী সে সংখ্যা ৮০ থেকে ৪০০টি পর্যন্ত। এ বেলায় কানে শোনে না যুক্তরাষ্ট্র। মুখে কুলুপ এঁটে থাকে তার আজ্ঞাবহ মিত্ররাও।
২০২০ সালেই শুধু নয়, ২০২৪, ২০২৫ এবং ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনেও ইসরায়েলের পারমাণবিক বোমার কথা তুলে ধরে পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট। অথচ কোনো মাথাব্যথা নেই যুক্তরাষ্ট্রের। নীরব ইরানের গলা টিপে ধরে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থাও (আইএইএ)। তেহরানের মতো আইএইএর নিয়মিত পরিদর্শনের আওতাভুক্ত নয় ইসরায়েলের পারমাণবিক কর্মসূচি! সুতরাং...




