কী জানি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
চাঁদ নিয়ে হাজারো ‘চন্দ্রকথা’ পৃথিবীর মানুষের মুখে। কেউ বলে ‘মামাবাড়ি’, কেউ ‘রূপের রানী’। কল্পগল্পে চরকা কাটা বুড়ি, বিজ্ঞানের চোখে মনুষ্যকুলের ভবিষ্যৎ! ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৪০০ কিলোমিটার দূরের রূপসী প্রতিবেশী নিয়ে কত হাঙ্গামা মর্ত্যে! পারলে লাফ দিয়ে চাঁদের গলা ধরে কোলের কচিকাঁচারাও! চন্দ্রপুরীর সেই আজন্ম মোহে এবার নাকি মুক্তি মিলছে মানুষের! হাতের নাগালেই শুধু নয়, পৃথিবীর পদতলে আসছে সাধের সৌরগ্রামের সেই ‘চাঁদনীতলা।’ ২০৩০ সালের মধ্যেই ‘গাঁও-গেরাম’ বসবে চাঁদের মুলুকে। এমন ভবিষ্যদ্বাণীই করেছেন ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির গবেষকরা।
পৃথিবীর মতোই মানববসতি হয়ে উঠবে চাঁদও। ব্যাঙের ছাতার মতো গজাবে ছোট ছোট গ্রাম। থাকবে মহাকাশ পর্যবেক্ষণকেন্দ্র। মঙ্গলে যাওয়ার ‘যাত্রীছাউনি’ও হবে হাজার সাধনার অধরা এ চাঁদে। ২০১৫ সালেই নেদারল্যান্ডসে অনুষ্ঠিত ‘আন্তর্জাতিক চন্দ্র সম্মেলন ২০২০-৩০’ শীর্ষক সম্মেলনে সে সুখবরই দিয়েছে সংস্থাটি। বিজ্ঞানবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘সায়েন্স অ্যালার্ট’ একটি প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে মহাজগতের এ ‘রূপপুর’ নিয়ে।
চার বছর পরই সেখানে জমি কিনবেন পৃথিবীর চন্দ্রপ্রেমিকরা। থ্রিডি প্রিন্টার জাদুর কাঠির ছোঁয়ায় শিকড় ছাড়বে গেরস্তের স্বপ্নকুঞ্জ। একটানা সে ঘরে থাকা যাবে পাক্কা এক মাস। বিস্ময়ের রাজভাণ্ডার নিয়ে হাজির হবে ২০৩০ সালের প্রযুক্তি! পৃথিবীর কারখানায় নয়, চাঁদের বাড়ির নির্মাণসামগ্রীও নির্মিত হবে চন্দ্রভূমিতেই। যুক্তরাজ্যের ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি মনোলিট পিটিয়েছে এই গৌরবের ঢোল! প্রতিষ্ঠাতা এনরিকো ডিনি জানিয়েছেন, চাঁদে থাকা অণু-পরমাণু পদার্থের মালমসলায় ম্যাগনেশিয়াম অক্সাইড মিশিয়ে তৈরি হবে কাগজ। তা থেকেই হবে প্রিন্ট। এমন একধরনের কালি তাতে ব্যবহার হবে, যা প্রিন্ট হওয়া সব পদার্থকে করবে হিমালয়ের পাথরের মতো শক্ত। সেই থ্রিডি প্রিন্ট দিয়েই নির্মিত হবে বিজ্ঞানী ও মহাকাশচারীদের স্বপ্নের নীড়। এরই মধ্যে ক্ষিপ্রতা পেয়ে আসছে প্রজন্মের চন্দ্র জলসার রথ। চলতি বছরের গত মার্চে আগামী দিনের মহাকাশ মিশন নিয়ে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নাসা। সেখানে আরও বড় প্রজেক্টের ঘোষণা দেয় সংস্থাটি। চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে হবে এ মহাস্টেশন। বিশাল আকারের এ মিশনটি সফল হলে মহাকাশে আরও শক্তিশালী হবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান।




