ইগো ভুলে বিদেশি কোচের দ্বারস্থ

কার্লো আনচেলত্তি
সাম্বার ছন্দকে কার্লো আনচেলত্তি বাঁধতে চাইছেন অপেরার উঁচু সুরে। আনচেলত্তিই প্রথম বিদেশি কোচ, যার অধীনে বিশ্বকাপে খেলছে ব্রাজিল।
২০২৫ সালের মে মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর আনচেলত্তির ব্রাজিল ১২ ম্যাচ খেলে জিতেছে সাতটি, হেরেছে তিনটি আর ড্র করেছে দুই ম্যাচে। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ব্রাজিলিয়ানরা সেরেছে মিসরের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে, যে ম্যাচটি ২-১ গোলে জিতেছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে তাদের হেক্সা অভিযান, এজন্যই হয়তো আফ্রিকান কোনো দলের বিপক্ষে খেলেই সবশেষ প্রস্তুতি নিতে চেয়েছেন আনচেলত্তি। মরক্কোর বিপক্ষেও একই কৌশল অবলম্বন করতেই দেখা যেতে পারে তাকে।
মিসরের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে প্রথমার্ধের পর বলতে গেলে গোটা একাদশই বদলেছেন আনচেলত্তি। তিনি ‘ডাবল পিভট’ বা ৪-২-৩-১ ছকেও খেলাতে পারেন আবার ৪-৩-৩ ছকেও যেতে পারেন। ব্রাজিলের দায়িত্ব নেওয়ার আগে রিয়াল মাদ্রিদের কোচ থাকার সময় অরেলিয়ান চুয়ামেনিকে যে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাটায় কাজে লাগিয়েছেন, সেই পজিশনে খেলানোর জন্য তার হাতে দুটি বিকল্প আছে। কাসেমিরো আর ব্রুনো গিমারেস। ব্রাজিল দলে সেন্টার ব্যাকের জায়গাটি নেবেন মার্কিনিয়োস। এর চেয়ে ভালো বিকল্প আনচেলত্তি খুব সম্ভবত বিশ্বেই আর পাবেন না!
আনচেলত্তির খেলোয়াড়ি জীবন থেকে যায় ৩৩ বছর বয়সেই। ছিলেন বহুমাত্রিক মিডফিল্ডার, এরপর কোচিং নিয়ে পড়ালেখা করেন ইতালির বিখ্যাত কোভেরচিয়ানো টেকনিক্যাল সেন্টারে। সেখানে একটি গবেষণাপত্রও লিখেছিলেন, যার নাম ফুটবলের ভবিষ্যৎ: আরও গতিশীলতা। লাতিন ফুটবলের যে অলস সৌন্দর্য, যতটা সম্ভব বল পায়ে ধরে রাখার যে প্রবণতা, তার সঙ্গে আনচেলত্তির দর্শনটা মেলে না। তার তাত্ত্বিক গুরু আরিগো সাচ্চির মতোই তিনি জমাট রক্ষণ ও কঠোর পরিশ্রমে হেভি প্রেসিং ফুটবলে বিশ্বাসী।
ইতালির ১৯৯৪ বিশ্বকাপে সাচ্চির সহকারী কোচ ছিলেন আনচেলত্তি, সেই দর্শন ধারণ করেই পারমার কোচ হয়ে সাফল্য পাননি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার দর্শনে বদল এনেছেন, এখন তিনি আগের চেয়ে অনেক বেশি পরমতসহিষ্ণু। একটি সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি বলেছেন, ‘আমি কোনো অন্ধ কিংবা গোঁড়া মানুষ নই। ফুটবলকে আমি ভীষণ ভালোবাসি, এটা আমার প্যাশন; তবে আমি সবকিছু যতটা সম্ভব সহজ রাখার চেষ্টা করি।’ গোলকিপার আলিসনও স্বীকার করেন, আনচেলত্তির আগমনের পর থেকে পুরো পরিবেশটাই বদলে গেছে। দলে তার এক বিশাল ব্যক্তিত্বের প্রভাব রয়েছে।
আনচেলত্তি তাই সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবলারদের ট্যাকটিকসের বাঁধনে আটকে রাখতে চান না। খেলোয়াড়দের পুরো স্বাধীনতাই দিতে চান, তবে রক্ষণটা ঠিক রেখে, ‘আমার এই দলের রক্ষণভাগের খেলাটা ভালো লেগেছে। জমাট, একতাবদ্ধ, নিবেদিত আর তীব্র।’




