বোধ হয়

আজ থেকে প্রায় ১০ হাজার বছর পরের পৃথিবীতে বদলে যেতে পারে সবকিছু। বিশ্বের পরিচিত মানচিত্র বোধহয় ভবিষ্যতে আর মিলবে না আজকের মানচিত্রের সঙ্গে। কয়েক বছর পরেই হারিয়ে যেতে পারে উপকূলের অনেক শহর। রাতের আকাশে দেখা দিতে পারে এক বিশাল নক্ষত্রের বিস্ফোরণ। আর মানুষের ভবিষ্যৎও হতে পারে সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিজ্ঞানের ভাষ্য, এই ভবিষ্যৎ হতে পারে রূপকথার মতোই অদ্ভুত এবং রোমাঞ্চকর। অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানবিষয়ক ওয়েবসাইট সায়েন্স অ্যালার্টের ২০১৭ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ হাজার বছর পরের পৃথিবী হবে একেবারে ভিন্ন।
আগামীর বিশ্ব কেমন হতে পারে, সে বিষয়ে কৌতূহল রয়েছে সবার। নিকট ভবিষ্যৎ বা কয়েকশ বছর পরের পৃথিবী নিয়ে অনেকেই করে থাকে নানা ধারণা। তবে হাজার হাজার বছর পরের বিশ্ব নিয়ে অনুমান করা অনেকটাই জটিল। কিন্তু প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিজ্ঞানের সাহায্যে এখন সেই পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব। জীবন ও মহাবিশ্ব সম্পর্কে যে জ্ঞান মানবজাতির আছে, তার ভিত্তিতে জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞান ও বিবর্তনের মতো কিছু বিষয় থেকেই দেওয়া হয়েছে বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস। সায়েন্স অ্যালার্টের তথ্য বলছে, ১০ হাজার বছর পর সম্ভবত পূর্ব অ্যান্টার্কটিকার বিশাল বরফস্তর আর থাকবে না। উচ্চ তাপমাত্রা ও জলবায়ু পরিবর্তনের অবনতির কারণে এই বিশাল বরফখণ্ড গলে মিশে যেতে পারে সমুদ্রে। ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যেতে পারে ৩ থেকে ৪ মিটার। উপকূল রেখা তখন হবে আজকের দিনের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। অনেক পরিচিত শহর ও সভ্যতার চিহ্ন তখন হারিয়ে যেতে পারে সমুদ্রের গভীরে। এমনকি বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে মহাকাশেও। বিজ্ঞানীদের ধারণা, আগামী ১০ হাজার বছরের মধ্যে লোহিত দানব তারকা অ্যান্টারেস বিস্ফোরিত হতে পারে একটি সুপারনোভায়। অন্যদিকে, মানুষের পাঠানো ভয়েজার ও নিউ হরাইজনসের মতো মহাকাশযান পৃথিবী থেকে বহু দূরে ছুটে চলতে পারে হাজার হাজার বছর ধরে। পৃথিবীতে তখন মানুষের সভ্যতা থাকবে কি না, তা অজানা। তবে মহাকাশে মানুষের তৈরি কিছু নিদর্শন টিকে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।



