সুতরাং

পদ এমন একটা জিনিস, যা পাওয়ার আগে মানুষ অপেক্ষা করে, পাওয়ার পর উপভোগ করে, আর হারানোর পর বুঝতে পারে।
পদ পাওয়ার আগে সবাইকে সালাম দেওয়া যায়। পাওয়ার পর সালাম নিতে মন চায়। পদ মানুষকে অনেক কিছু শেখায়। কার সঙ্গে কথা বলতে হবে। কার ফোন আগে ধরতে হবে। কার সামনে হাসতে হবে। কাকে রাগ দেখাতে হবে।
পদের সঙ্গে সঙ্গে হাসিরও পদোন্নতি ঘটে। আগে যে কথায় কেউ হাসত না, এখন সেই কথাতেই ঘর কাঁপে।
পদ ধরে রাখার কৌশলও কম নয়। কেউ যোগ্যতা দিয়ে ধরে রাখে। কেউ অভিজ্ঞতা দিয়ে। কেউ আবার এমনভাবে চেয়ার আঁকড়ে বসে, মনে হয় চেয়ারটা ছেড়ে দিলেই পৃথিবীর ভারসাম্য নষ্ট হবে।
পদে পদে উন্নতি হলে মানুষ বলে, ‘পরিশ্রমের ফল।’ পদ না পেলে বলে, ‘সবই ভাগ্য।’ অন্য কেউ পেলে, ‘মামার জোরে পেয়েছে।’ নিজে না পেলে বলে, ‘যোগ্যতার কোনো মূল্য নেই।’
পদ পাওয়ার পর কথাবার্তায়ও পরিবর্তন আসে। আগে বলত, ‘আমি চেষ্টা করব।’ পরে বলে, ‘দেখছি।’ আরও পরে বলে, ‘বিষয়টি বিবেচনাধীন।’
শেষের কথাটির বিশেষ সুবিধা আছে। এতে কাজ হবে কি না বোঝার উপায় নেই। কিন্তু বক্তার গুরুত্ব ঠিকই বোঝা যায়।
পদ যত বড় হয়, নামের আগে-পরে শব্দও তত বাড়ে। কেউ কেউ নিজের নাম বলার আগেই পদবির পুরো ইতিহাস শুনিয়ে দেয়। নামটা তখন ছোট হয়ে যায়। পদবিটাই মূল চরিত্র।
তবে সব পদেরই একটা শেষ আছে। একদিন চেয়ার ছাড়তে হয়। দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে হয়। তখন বোঝা যায়, এত দিন মানুষ ব্যক্তিকে সম্মান করেছে, নাকি পদটাকে।
পদ চলে যাওয়ার পরও কারও কারও পুরনো অভ্যাস থেকে যায়। নির্দেশ দেওয়ার ভঙ্গিও বদলায় না। শুধু শোনার লোকগুলো আর থাকে না। তখন কেউ কেউ পরিচয় দেয়, ‘আমি অমুক সময় তমুক ছিলাম।’ শুনে মনে হয়, পদটা চলে গেছে ঠিকই। কিন্তু মানুষটা এখনো তার পদ ত্যাগ করতে পারেননি!
পদ পাওয়া সম্মানের। পদে থাকা দায়িত্বের। পদোন্নতি আনন্দের। কিন্তু পদ চলে যাওয়ার পরও মানুষ যেন সম্মান করে, সেটাই আসল অর্জন।



