আজ আইসক্রিম খাওয়ার দিন, যেভাবে এলো দিনটি

সংগৃহীত ছবি
দুপুরের তীব্র রোদ। গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা। এমন সময় হাতে এক স্কুপ ঠান্ডা আইসক্রিম। প্রথম কামড়েই যেন মিলল এক চিলতে স্বস্তি। শিশু হোক বা বড়, আইসক্রিমের প্রতি ভালোবাসা যেন সবারই।
এই ভালোবাসাকেই উদযাপন করতে প্রতিবছর জুলাই মাসের তৃতীয় রোববার পালিত হয় ‘ন্যাশনাল আইসক্রিম ডে। শুধু একটি দিনই নয়, পুরো জুলাই মাসকেই উৎসর্গ করা হয়েছে আইসক্রিমের নামে।
আজ আইসক্রিম মানেই অসংখ্য স্বাদের সমাহার। ভ্যানিলা, চকোলেট, স্ট্রবেরি, পেস্তা কিংবা আম—তালিকা যেন শেষ হওয়ার নয়। শুধু কাপ বা কোনেই সীমাবদ্ধ নেই এই ঠান্ডা মিষ্টান্ন। আইসক্রিম কেক, মিল্কশেক, স্যান্ডউইচ, বানানা স্প্লিটসহ নানা ধরনের ডেজার্টেও এটি এখন অপরিহার্য।
তবে এই পরিচিত খাবারের ইতিহাস অনেক পুরোনো। ইতিহাসবিদদের ধারণা, প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে ঠান্ডা মিষ্টান্নের যাত্রা শুরু। পরে পারস্যে বরফের সঙ্গে গোলাপজল, ফল, জাফরান ও সেমাই মিশিয়ে তৈরি হতো বিশেষ ধরনের শীতল খাবার। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় ইরানের বিখ্যাত ‘বাসতানি সোনাতি’ আজও জনপ্রিয়।
পেস্তা, জাফরান, গোলাপজল, ভ্যানিলা, দুধ ও ডিমের মিশ্রণে তৈরি এই আইসক্রিমের স্বাদ অন্যগুলোর থেকে আলাদা।
একসময় আইসক্রিম ছিল অভিজাতদের খাবার। কারণ বরফ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ ছিল কঠিন এবং ব্যয়বহুল। ফলে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে ছিল এটি। সময় বদলেছে। হিমায়ন প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে আইসক্রিমও পৌঁছে গেছে সবার হাতে। এখন বছরের প্রায় প্রতিটি দিনই বিশ্বের নানা দেশে সহজেই পাওয়া যায় এই প্রিয় খাবার।
ন্যাশনাল আইসক্রিম ডে চালুর ইতিহাসও বেশ মজার। ১৯৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান আইসক্রিমের জনপ্রিয়তাকে স্বীকৃতি দিয়ে জুলাই মাসকে ‘ন্যাশনাল আইসক্রিম মান্থ’ এবং জুলাইয়ের তৃতীয় রবিবারকে ‘ন্যাশনাল আইসক্রিম ডে’ ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই দিনটি নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়ে আসছে।
দিনটি উদযাপনের নিয়মও খুব সহজ। পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে প্রিয় স্বাদের আইসক্রিম খাওয়া। নতুন কোনো ফ্লেভার চেখে দেখা। কিংবা ঘরেই নিজের পছন্দের উপকরণ দিয়ে আইসক্রিম তৈরি করা। ছোট ছোট এসব মুহূর্তই হয়ে ওঠে আনন্দের উপলক্ষ।
সময় বদলেছে। বদলেছে আইসক্রিমের স্বাদ, রং আর পরিবেশনের ধরনও। কিন্তু একটি বিষয় একই রয়ে গেছে। এক স্কুপ আইসক্রিম এখনও হাসি এনে দেয় শিশুদের মুখে, আর বড়দের ফিরিয়ে নেয় শৈশবের মিষ্টি স্মৃতিতে। তাই আইসক্রিম এখন শুধু একটি খাবার নয়; এটি আনন্দ, উৎসব আর ভালো লাগারও আরেক নাম।






