এবং

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
সাপ্তাহিক ছুটি মানুষ কাজে লাগায়। আমিও তা-ই করি। কিন্তু গত শনিবার আমার সাপ্তাহিক ছুটি ছিল। তার সঙ্গে রবিবার মিলিয়ে আমি ঘুরলাম ডাক্তারের চেম্বার ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। আমার সারভাইক্যাল সমস্যা। চূড়ান্ত পরীক্ষার পর ডাক্তার গম্ভীর মুখে বললেন, ‘আপনার ঘাড়ের দুটো ডিস্ক কাছাকাছি চলে এসেছে।’
শুনে আমি ইমোশনাল না হয়ে পারলাম না। যদিও আমার পিএলআইডি নিয়ে কয়েক বছর ধরে সংগ্রাম করে আসছিলাম। ভাবছি, আমার ঘাড়ে বসে দুই হাড়ের প্রেম! এটি মানা যায়? এই জগতে কেউ আমার কাছে আসে না, অবশেষে আমার দুটো ডিস্ক একে অন্যের কাছাকাছি চলে এলো? আহা, কী প্রেম!
সমস্যা হলো, ঘাড়ের দুই হাড়ের প্রেমে ভুগছি কিন্তু আমি। এখন আমার ঘাড় আর আগের মতো নেই। ওটা প্রায় জংধরা কলকবজা। ডান-বাম তাকাতে গেলে নার্ভের অনুমতি নিতে হয়। রাস্তায় কেউ ‘এই ভাই’ বলে ডাকলে আমি দাঁড়িয়ে পুরো শরীর ঘুরিয়ে তাকে সাড়া দিই। লোকে ভাবে, আমি বোধহয় কোনো রোবটের রিহার্সাল দিচ্ছি!
ঘাড়ের প্রভাব বাঁ হাতে পড়েছে, সে-ও আমার কথা শুনতে চাইছে না। ঝিমঝিম করে, ব্যায়ামের মধ্যে রাখতে হয়।
ডাক্তার ওষুধ দিলেন কম, তবে সতর্ক করলেন বেশি। খুশি মনে আমি বাসায় ফিরলাম যুদ্ধজয়ী সৈনিকের মতো। সাধারণত ডাক্তারের কাছ থেকে ফেরার সময় অন্যরকম এক আনন্দ নিয়ে রোগীরা ফেরেন। তারা ভাবেন— এই বুঝি সুস্থ হয়ে গেলাম। কিন্তু রাতে শুরু হলো আসল নাটক। শুলেই ঘাড় বলে, ‘ভাই, আমাকে ডিস্টার্ব করো না, আমাকে আমার মতো থাকতে দাও।’
ঘুম আসে না। এপাশ-ওপাশ করি, বালিশ ওল্টাই। তখন ঘাড়ও মাঝখান থেকে বিদ্রোহ করে। মনে হয়, মাথাটা আমার না, অন্যের মাথা ভাড়া নিয়েছি।
তখন মাথায় হাজারো চিন্তা। আমার ঘাড় কি তেড়া হয়ে গেল? ঘাড় তেড়া হলে চাকরি করব কীভাবে? সবাই আমাকে ঘাড়তেড়া বলবে! ঘুম থেকে উঠে আয়নার সামনে দাঁড়ালাম। দেখলাম— ঘাড় যতটা না বাঁকা, তার চেয়ে আমার টেনশন পুরো ৯০ ডিগ্রি বাঁকা।
শেষমেশ, ডিস্ক কাছে আসুক আর দূরে যাক, আমার ঘাড় আমারই থাকবে। এমন পোক্ত বন্ধন ছেড়ে যায় না কেউ, ও একটু অভিমান করেছে মাত্র। ফিজিওথেরাপি, একটু আদর-যত্ন, নিয়মিত ব্যায়াম করলেই ঠিক হয়ে যাবে।
নিজের অসুস্থতা নিয়ে রসিকতা করেছি, কারণ কখনো কখনো হাসিই কষ্টকে সহজ করে। কিন্তু অন্যের অসুস্থতা, দুর্বলতা কিংবা সমস্যা নিয়ে রসিকতা নয়। সেখানে দরকার সহমর্মিতা, সম্মান ও মানবিকতা। কাউকে উপেক্ষা না করে তার পাশে দাঁড়াই, কষ্টটা বোঝার চেষ্টা করি। এখন বিপদে পাশে দাঁড়ানোর মানুষের খুব অভাব।



