রানওয়ে নয়, সাগরের বুক চিরে বিমান যেখানে ডানা মেলে

জোয়ারের সময় এই রানওয়ে পুরোপুরি তলিয়ে যায় সাগরের নোনা জলের নিচে। ছবি : সংগৃহীত
সাধারণত বিমানবন্দরগুলো যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবেই ব্যবহৃত হয়, পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে নয়। তবে স্কটল্যান্ডের পশ্চিম উপকূলের একটি প্রত্যন্ত দ্বীপে এমন এক বিমানবন্দর রয়েছে, যা বিশ্বের অন্য সব জায়গা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
সেখানে বিমানের চাকা কোনো পিচঢালা রানওয়ে স্পর্শ করে না, বরং সরাসরি আছড়ে পড়ে সাগরের বালুকাময় সৈকতে। জোয়ারের সময় এই রানওয়ে পুরোপুরি তলিয়ে যায় সাগরের নোনা জলের নিচে। বিমান চালনা, রোমাঞ্চ আর প্রকৃতির এমন অপূর্ব মেলবন্ধন দেখতে প্রতিবছর বহু ভ্রমণপিপাসু ছুটে আসেন এই দ্বীপে।
স্কটল্যান্ডের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত আউটার হেব্রাইডিসের একটি ক্ষুদ্র দ্বীপ বারা। এই দ্বীপেই গড়ে উঠেছে অনন্য বারা বিমানবন্দর। এটিই বিশ্বের একমাত্র বিমানবন্দর, যেখানে নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটগুলো সরাসরি একটি সমুদ্রসৈকত থেকে ওঠানামা করে।
পিচ কিংবা কংক্রিটের রানওয়ের বদলে এখানে বিমান অবতরণের জন্য ব্যবহার করা হয় ত্রাই মোর বা ককিল স্ট্র্যান্ড নামের সৈকতের শক্ত বালুকাময় অংশকে।
সমুদ্রের জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করে প্রতিদিন এই বিমানবন্দরের ফ্লাইটের সময়সূচি নির্ধারণ করতে হয়। জোয়ারের সময় রানওয়েটি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় প্রকৃতির নিয়মের সঙ্গেই চলে বিমান ওঠানামার হিসাব।
বিশ্বের বুকে বারা বিমানবন্দরকে যা অনন্য করে তুলেছে, তা হলো এর প্রাকৃতিক রানওয়ে। এই বিমানবন্দরের রানওয়েগুলো চিহ্নিত করা থাকে বালুর মধ্যে পুঁতে রাখা কিছু কাঠের খুঁটি দিয়ে। বিমান ওঠানামা না করার সময়ে এই সৈকতটি সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকে।
বারা দ্বীপটি কেবল এই বিমানবন্দরের জন্যই নয়, বরং তার শান্ত ও মনোরম পরিবেশের জন্যও পর্যটকদের কাছে দারুণ আকর্ষণীয়। দ্বীপটিতে রয়েছে নীল জলরাশির সাদা বালুকাময় সৈকত, ঐতিহাসিক কিসিমুল দুর্গ, উপকূলীয় হাঁটার পথ এবং ঐতিহ্যবাহী হেব্রিডিয়ান গ্রাম।
এখানকার তাজা সামুদ্রিক খাবারও পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের বিষয়। গ্রীষ্মের দীর্ঘ দিন ও মনোরম আবহাওয়ার কারণে মে থেকে সেপ্টেম্বর মাসকে এই দ্বীপে ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযোগী সময় ধরা হয়।
গ্লাসগো থেকে সরাসরি বিমানে বা ওবান ও পার্শ্ববর্তী দ্বীপগুলো থেকে ফেরির মাধ্যমে পৌঁছানো যায় এই রূপালী সৈকতের বারা দ্বীপে।
সূত্র : এনডিটিভি






