কী জানি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
নীল আকাশ, সবুজ বন, নদী, সমুদ্র, পাহাড়, বরাবরই সৌন্দর্যের প্রতীক পৃথিবী। বিশ্বের বুকে কালের পর কাল মানবজাতি গড়ে তুলেছে সভ্যতা। ছোট বসতি থেকে মানুষ তৈরি করেছে বিশাল শহর। নির্মাণ করেছে সেতু, মহাসড়ক, কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, আরও কত কী। মানবসভ্যতা যত এগিয়েছে, পৃথিবী হয়েছে তত উন্নত। ২০৫০ সালে ইট, পাথর, রডের এসব দালানকোঠা সবই থাকবে। থাকবে না শুধু মানবজাতি, সভ্যতা। পৃথিবী ধ্বংসের বিষয়ে এমনই এক উদ্বেগজনক ভবিষ্যদ্বাণী করেছে যুক্তরাষ্ট্রের এমআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের বানানো একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম। ১৯৭৩ সালে তৈরি এই সিস্টেমটি দেখিয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যেই আমাদের পরিচিত সভ্যতার অস্তিত্ব হয়ে যেতে পারে বিলীন! এ বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করে ২০২২ সালে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে আয়ারল্যান্ডের দ্য আইরিশ সান।
২০৬০ সাল নাগাদ আধুনিক সভ্যতা কেমন হতে পারে, তা বুঝতে এবং পূর্বাভাস দেওয়ার লক্ষ্যেই এমআইটির অধ্যাপকরা এক বিস্ময়কর নিখুঁত মডেল তৈরি করেন ১৯৭৩ সালে। মূলত থিংক ট্যাংক ‘ক্লাব অব রোম’-এর উদ্যোগে বিশেষ এই কম্পিউটার মডেলটি তৈরি করা হয়। এমআইটির প্রোগ্রামটির নাম দেওয়া হয় ‘ওয়ার্ল্ড ওয়ান’। ভবিষ্যতের সভ্যতার অবস্থা বুঝতে এবং তা বিশ্লেষণ করতে কম্পিউটার প্রোগ্রামটি ব্যবহার করেছিল দূষণের মাত্রা, জন্মহার এবং প্রাকৃতিক সম্পদের মজুদসংক্রান্ত বিপুল পরিমাণ তথ্য। পূর্বাভাসে দেখানো হয়, জনসংখ্যা ও শিল্পের অবাধ বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ২০৪০ সালের মধ্যে বিশ্ব জুড়ে নেমে আসবে সামগ্রিক বিপর্যয়। ভবিষ্যতে দূষণ এতই মারাত্মক হয়ে উঠবে যে, তা মানুষের প্রাণহানি ঘটাতে শুরু করবে। এতে কম সময়ের মধ্যেই বিপুল আকারে হ্রাস পাবে জনসংখ্যা। একপর্যায়ে জনসংখ্যা এতই কমে যাবে যে, এই গ্রহে টিকে থাকবে না কোনো সভ্যতা। ‘ক্লাব অব রোম’-এর প্রতিষ্ঠাতা ড. অরেলিও পেচ্চেইর ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী শুধু মানবসভ্যতা নয়, ২০৭০ সালের মধ্যে ‘এই পৃথিবী, প্রাণী, উদ্ভিদ ও সবুজ প্রান্তর— সবই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।’



